বাংলাদেশের সামনে এবার এমন এক প্রতিপক্ষ, যার ফুটবল ইতিহাস বাংলাদেশের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ। আজ ফিফা আসিয়ান কাপ ফুটবলে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। নিজেদের মাঠে শক্তিশালী ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তাই কঠিন পরীক্ষার সামনে জামাল ভূঁইয়ার দল। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল এখনকার প্রজন্মের কাছে হয়তো বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবা চেলসির মতো পরিচিত নয়। কিন্তু এশিয়ার ফুটবলে দেশটির রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে অলিম্পিক ফুটবলে ব্রোঞ্জ পদক, পাঁচবার এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ।
অন্যদিকে বাংলাদেশের ঘরে রয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, সাফ গেমস এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের কিছু সাফল্য। দুই দেশের ফুটবল সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। একসময় মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত মারদেকা কাপে নিয়মিত মুখোমুখি হতো দুই দল। সর্বশেষ ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল বাংলাদেশ। দুই দলের সাত দেখায় বাংলাদেশের জয় আছে একটিতে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইন্দোনেশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ইন্দোনেশিয়াই এগিয়ে। ফিফা র্যাংকিংয়েও তারা বাংলাদেশের চেয়ে ওপরে। ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা ফুটবলার এবং ইন্দোনেশিয়ান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটি এবার খেলবে নিজেদের দর্শকদের সামনে।
বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি অবশ্য খুব একটা স্বস্তির নয়। টুর্নামেন্টে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে দলটি। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১১টি কর্নার পেয়েও গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কোচ থমাস ডুলির কৌশল নিয়ে সমালোচনা। তবে আগের দুই ম্যাচের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুন ম্যাচে নিজেদের পরিবর্তন করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। কোচিং স্টাফ ইন্দোনেশিয়ার আগের ম্যাচগুলো বিশ্লেষণ করে তাদের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করেছেন বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে লড়াইটা আরও কঠিন হতে পারে। আগের দুই ম্যাচে গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতি কম থাকলেও আজ স্বাগতিকদের ম্যাচ হওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার ম্যাচে তাই গ্যালারিজুড়ে থাকবে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থকদের উপস্থিতি। তবু বাংলাদেশের ফুটবলাররা আত্মবিশ্বাসী। প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, লক্ষ্য থাকবে জয়। আগের ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ হিসেবেই ম্যাচটিকে দেখছেন জামাল ভূঁইয়ারা। ইতিহাস বাংলাদেশের পক্ষে খুব বেশি কথা না বললেও ফুটবলে শেষ কথা বলে মাঠের ৯০ মিনিট। ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘ ফুটবল ইতিহাসের সামনে বাংলাদেশ এবার কতটা লড়াই করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন