ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদাবাজির ‘ঢালাও’ অভিযোগ করেছে সালমান, মামলা করলে তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপরাধী যে দলের হোক না কেন, সরকারকে কঠোর হতে হবে: আসিফ নজরুল শিগগিরই জ্বালানি সংকট কেটে যাবে, আশা জ্বালানিমন্ত্রীর বাংলা সিনেমার মতো ‘ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে’: আসিফ মাহমুদ ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন ভারতে টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা ও ধস, নিহত অন্তত ৫৬ এগিয়ে গিয়েও চাইনিজ তাইপের কাছে হারলো বাংলাদেশের মেয়েরা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার সঙ্গে শাসক দলের লোকজন জড়িত: মিয়া গোলাম পরওয়ার ঝিনাইদহ সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

কোরআন-হাদিসের আলোকে বিয়ের ১০ উপকারিতা

ইসলামে বিয়ে শুধু সামাজিক একটি সম্পর্ক নয়; বরং কোরআন ও হাদিসের আলোকে এটি মানুষের জীবনকে শৃঙ্খলিত, পবিত্র ও
  • আপলোড সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৪:৫১ সময়
  • আপডেট সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৪:৫১ সময়
কোরআন-হাদিসের আলোকে বিয়ের ১০ উপকারিতা

ইসলামে বিয়ে শুধু সামাজিক একটি সম্পর্ক নয়; বরং কোরআন ও হাদিসের আলোকে এটি মানুষের জীবনকে শৃঙ্খলিত, পবিত্র ও সুন্দর করার একটি বৈধ ব্যবস্থা। দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে মানুষ ভালোবাসা, মমতা, মানসিক প্রশান্তি এবং পারিবারিক বন্ধনের পাশাপাশি নৈতিক জীবনযাপনের সুযোগ পায়।


কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিয়ের উল্লেখযোগ্য ১০টি উপকারিতা নিয়ে এবার বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।


প্রথমত, বিয়ে দ্বীন ও চরিত্র রক্ষায় সহায়ক। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুবকদের উদ্দেশে বলেছেন, তাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ বিয়ে দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করতে অধিক সহায়ক। আর যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, তাকে রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ থেকে বোঝা যায়, ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক চাহিদাকে অস্বীকার না করে তা পূরণের বৈধ পথ দেখিয়েছে।


দ্বিতীয়ত, বিয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত পালনের সুযোগ তৈরি করে। নবী-রাসুলদের জীবনাচারের অন্যতম অংশ ছিল পরিবার ও দাম্পত্য জীবন। মহানবী নিজে বিয়ে করেছেন এবং সাহাবিদেরও বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তাই ইসলামে বিয়ে শুধু সামাজিক রীতি নয়, বরং সুন্নাহসম্মত জীবনব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


তৃতীয়ত, বিয়ে মানুষকে গুনাহ থেকে বাঁচতে সহায়তা করে। মানুষের স্বাভাবিক যৌন চাহিদার জন্য ইসলাম বৈধ ব্যবস্থা হিসেবে বিয়েকে নির্ধারণ করেছে। বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক মানুষকে অবৈধ সম্পর্ক ও যৌন অনাচার থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করতে পারে। এ কারণেই সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে বিয়ের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।


চতুর্থত, বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও মমতা তৈরি হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা আর-রুমের ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষের জন্য তাদের মধ্য থেকেই জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করে এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ দাম্পত্য সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হলো ভালোবাসা, মমতা ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ।


পঞ্চমত, দাম্পত্য জীবনে প্রশান্তি আসে। বিয়ের উদ্দেশ্য শুধু একসঙ্গে বসবাস করা নয়। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে মানসিক স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারেন। কোরআনে জীবনসঙ্গীর কাছে প্রশান্তি লাভের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।


ষষ্ঠত, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য নিরাপত্তা ও আশ্রয় হয়ে উঠতে পারেন। সুরা আল-বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।’ পোশাক যেমন মানুষকে আচ্ছাদিত ও সুরক্ষিত রাখে, তেমনি স্বামী-স্ত্রীও একে অপরের দুর্বলতা গোপন রাখা, বিপদে পাশে থাকা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন।


সপ্তমত, বিয়ে রিজিক ও কল্যাণের আশার কারণ হতে পারে। সুরা আন-নুরের ৩২ নম্বর আয়াতে অবিবাহিতদের বিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা দরিদ্র হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন। এর অর্থ এই নয় যে বিয়ের পর প্রত্যেক মানুষের আর্থিক পরিস্থিতি একইভাবে পরিবর্তিত হবে। বরং আয়াতটি আল্লাহর ওপর ভরসা এবং তাঁর পক্ষ থেকে রিজিকের আশাবাদী হওয়ার শিক্ষা দেয়।


অষ্টমত, বিয়ের মাধ্যমে বৈধ পরিবার ও বংশধারার প্রতিষ্ঠা হয়। কোরআনে আল্লাহ মানুষের জন্য জীবনসঙ্গী সৃষ্টি এবং তাদের মাধ্যমে সন্তান ও নাতি-নাতনি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। সন্তান পরিবার ও বংশধারার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজে কল্যাণের ধারাও এগিয়ে নিতে পারে।


নবমত, নেককার জীবনসঙ্গী আল্লাহর আনুগত্যে সহযোগী হতে পারেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নেককার স্ত্রীকে দুনিয়ার অন্যতম উত্তম সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একজন নেককার জীবনসঙ্গী পারিবারিক জীবনে সহযোগিতার পাশাপাশি নামাজ, রোজা, নৈতিকতা ও আল্লাহর আনুগত্যের পথে একে অপরকে উৎসাহিত করতে পারেন।


দশমত, নেককার সন্তানের দোয়া মৃত্যুর পরও বাবা-মায়ের জন্য কল্যাণের কারণ হতে পারে। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে। এর মধ্যে একটি হলো এমন নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। তাই সন্তানকে সঠিক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলা বাবা-মায়ের জন্য দুনিয়া ও আখিরাত—দুই জীবনেই কল্যাণের কারণ হতে পারে।


সব মিলিয়ে ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে শুধু স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কের নাম নয়। এটি চরিত্র সংরক্ষণ, বৈধ পরিবার গঠন, ভালোবাসা ও প্রশান্তি অর্জন, সন্তান-সন্ততির সঠিক লালন-পালন এবং আল্লাহর আনুগত্যের পথে একে অপরকে সহযোগিতা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে দাম্পত্য জীবনের এসব কল্যাণ তখনই বাস্তব অর্থ পায়, যখন স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের অধিকার, দায়িত্ব, সম্মান ও নৈতিকতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে পালন করেন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প

‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প