পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী ৭ জুন উদযাপন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। সে অনুযায়ী রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট বসার কথা ৩ জুন থেকে। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এখনো সব হাটের ইজারাদার নিয়োগ চূড়ান্ত করতে পারেনি, ফলে হাট বসানো নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছর একটি স্থায়ী (গাবতলী) হাটের পাশাপাশি ১০টি অস্থায়ী হাট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র দুটি হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে। এগুলো হলো—ডিএনসিসির ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে মস্তুল চেকপোস্ট–সংলগ্ন খালি জায়গায় এবং তেজগাঁওয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট–সংলগ্ন মাঠে।
হাট বসানোর প্রস্তুতির জন্য অন্তত দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দরপত্রদাতা ব্যবসায়ীরা। এখনো অধিকাংশ হাটের ইজারা না হওয়ায় প্রচারণা ও প্রস্তুতির কাজে বাধা পড়ছে। দেশব্যাপী পশু ব্যবসায়ীদের আগাম জানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী গাবতলী হাট ও অন্যতম বৃহৎ দিয়াবাড়ি (উত্তরা) হাটের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একইভাবে, মিরপুর কালশী বালুর মাঠের হাটের দরপত্রেও সরকার নির্ধারিত দর পাওয়া যায়নি। দুই দফা দরপত্র আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।
গত ২৯ এপ্রিল প্রথম দফায় ১০টি অস্থায়ী হাটের দরপত্র আহ্বান করে ডিএনসিসি। তবে বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং, আফতাবনগর ও খিলক্ষেত বনরূপা হাটের ইজারা উচ্চ আদালতের নির্দেশে বাতিল হয়েছে। বর্তমানে শুধু দুটি হাটের জন্য সরকার নির্ধারিত দরের বেশি প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির এক বৈঠকে ছয়টি হাটের বিষয়ে সুপারিশ প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন তা অনুমোদনের জন্য প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামীকাল রোববারের মধ্যে এসব হাটের ইজারা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া, নতুন দুটি হাট—কাঁচকুড়া এবং খিলক্ষেত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা—শামিল করে দ্বিতীয় দফায় ২৪ মে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
সঠিক প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে পশু ব্যবসায়ী ও নগরবাসীর মধ্যে ঈদ সামনে রেখে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন