বান্দরবানের থানচিতে গতকাল বুধবার দুপুরে সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে হামলা চালিয়েছে পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সদস্যরা। এ সময় তারা সোনালী ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং কৃষি ব্যাংক থেকে সাত লাখ টাকা লুট করে। তবে তারা কোনো ব্যাংকের ভল্ট খুলতে বা ভাঙতে পারেনি। থানচি থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে কেএনএফ সদস্যরা রুমার সোনালী ব্যাংকে হামলা চালায়। এ সময় তারা ব্যাংকের ভল্ট খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় এবং ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যায়। অপহরণের ২৬ ঘণ্টা পরও গত রাত ১০টা পর্যন্ত অপহৃত ব্যাংক ম্যানেজারের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যসহ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পর সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে যৌথ বাহিনী চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।
হামলা, অপহরণ এবং টাকা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় গতকাল দুপুরে পুলিশের আইজি যখন রুমা উপজেলার সোনালী ব্যাংকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ছিলেন, সে সময় রুমার পাশের উপজেলা থানচির সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকে কেএনএফ সদস্যরা হামলা চালায়। সেখানেও তারা ভল্ট ভাঙতে না পেরে ক্যাশ কাউন্টার ও গ্রাহকদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রুমার সোনালী ব্যাংকে হামলার সময় শতাধিক কেএনএফ সদস্য থাকলেও থানচিতে ছিল ২০ থেকে ২৫ জন। তাদের সবার হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে ব্যাংক লুটের ঘটনায় কেএনএফ জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। এ নিয়ে সরকার সব কিছুই করবে।
গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘কুকি-চিন একটি জঙ্গি গোষ্ঠী। কুকি-চিনের তৎপরতা ইদানীং বেড়েছে। পুলিশের আইজির নেতৃত্বে একটি টিম সেখানে রয়েছে। ব্যাংক লুট করে চলে যাওয়ার পর পুলিশ ও বিজিবি সেখানে অপারেশন চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী সদস্যরাও যোগ দেবে।’
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন