বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আবারও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পাশাপাশি তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তিন দিনের পরামর্শ বৈঠকে অংশ নিতে দীনেশ ত্রিবেদী নয়াদিল্লি যাওয়ার পর বুধবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বর্তমান অবস্থান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনাই বৈঠকের অন্যতম বিষয় ছিল। তবে ভারতের হাইকমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর সময়েই এই বৈঠক হলো। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। গত মাসে দীনেশ ত্রিবেদীও বলেছিলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই এবং দুই পক্ষের জন্য উপযুক্ত সময়েই সফরটি হতে পারে। ভারতের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে নয়াদিল্লি আগ্রহী। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো কাঠামোবদ্ধ আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা ও দুই দেশের অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই দূরত্ব কমানোর কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এর আগে আগস্টেও দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর নয়াদিল্লি গিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তখনও দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, ব্যবসা, পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির পরই সফরের সময় নির্ধারণ করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করেছেন। ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো সফরের নির্দিষ্ট তারিখ বা কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে সেই সফর শেষ পর্যন্ত হয়নি। ফলে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে নতুন করে দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা কতটা এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন