একপ্রান্তে অধিনায়কের ব্যাটে ঝড়, অন্যপ্রান্তে একের পর এক ব্যর্থতা—মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দুর্দান্ত লড়াই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের হার ঠেকাতে পারল না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০৪ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রানেই থেমে গেছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। ফলে ৩৭ রানের জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়নস। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড ওয়ার্নারের ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংসের পর কালাম ফার্গুসনের ৬৩ এবং শেষদিকে বেন ডাঙ্কের অপরাজিত ৪৫ রানের ওপর ভর করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৩ রান সংগ্রহ করে তারা।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আবু জায়েদ রাহী। তিনি ৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন। জিয়াউর রহমান নেন দুটি উইকেট এবং রুবেল হোসেনের শিকার একটি উইকেট। তবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের দ্রুত রান তোলার গতি থামাতে পারেনি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। ২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য আশাব্যঞ্জক ছিল। ইমরুল কায়েস ৩০ বলে ৪১ রান করে দলকে ভালো ভিত্তি এনে দেন। ফজলে মাহমুদ রাব্বিও ২০ বলে ২৭ রান করেন। কিন্তু দলীয় ৭১ রানে ইমরুলের বিদায়ের পরপরই রাব্বি ফিরে গেলে বাংলাদেশের ইনিংসে ছন্দপতন শুরু হয়।
এরপর মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় জয়ের পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাত্র ২৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। এরপরও থামেননি। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি বিশাল ছক্কা ও দুটি চার।
কিন্তু বিপরীত প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় মাহমুদউল্লাহর এই দুর্দান্ত লড়াইও যথেষ্ট হয়নি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫১ রান। সেখানে আসে মাত্র ১৪ রান। ফলে ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৬৬ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ডেভিড ওয়ার্নার ৩৮ বলে ৬৬ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন। আর বাংলাদেশের হয়ে মাহমুদউল্লাহর ৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংসটি হয়ে থাকল পরাজয়ের ম্যাচে সবচেয়ে উজ্জ্বল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন