রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতির এখনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় সপ্তম অবস্থানে উঠে এসেছে ঢাকা। সর্বশেষ বায়ুমান সূচকে রাজধানীর বাতাসকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান সূচক ছিল ১৬৯। এই স্কোর অনুযায়ী রাজধানীর বাতাস অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল সপ্তম।
দূষণের তালিকায় ২০৭৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে ছিল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর। ১৯৯ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। ভারতের কলকাতা ১৮৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয়, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিনসাসা ১৮৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং ভারতের দিল্লি ১৮২ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল। বায়ুর মান পরিমাপের ক্ষেত্রে শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত বায়ু সহনীয় বা মাঝারি মানের। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর হলে বাতাসকে অস্বাস্থ্যকর বলা হয়।
এরপর ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর হলে বায়ুর মান খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে ঢাকার বর্তমান ১৬৯ স্কোর নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করছে। বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং অন্তঃসত্ত্বা নারী। তবে দূষিত বাতাসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কোনো বয়সের মানুষই পুরোপুরি মুক্ত নন। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে বসবাস করলে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশে বায়ুমান সূচক নির্ধারণের ক্ষেত্রে বস্তুকণা, অর্থাৎ পিএম১০ ও পিএম২.৫, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোনের মাত্রা বিবেচনা করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এসব উৎস থেকে নির্গত দূষিত কণা ও গ্যাস নগরীর বাতাসের মানকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের সঙ্গে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মতো গুরুতর রোগের সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তাই ঢাকার বাতাসের বর্তমান অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি নগরবাসীর জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দূষিত বাতাসের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার প্রয়োজন রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন