চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক দিনের জন্য বদলে যাচ্ছে নৌযান চলাচলের স্বাভাবিক চিত্র। নির্দিষ্ট এলাকায় বিমানবিধ্বংসী ফায়ারিং অনুশীলন করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আর এ কারণে বিপজ্জনক এলাকা এড়িয়ে চলতে নৌযানগুলোকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ। সোমবার ৫ অক্টোবর নৌ-পথ শাখা থেকে প্রকাশিত নৌ-সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্কুল অব আর্মি এয়ার ডিফেন্সের পরিচালনায় প্রশিক্ষণার্থীরা আগামী ১৯ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ফৌজদারহাট এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জে বিমানবিধ্বংসী ফায়ারিং অনুশীলন করবেন। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে এই অনুশীলন চলবে রাত ১১টা পর্যন্ত। ফায়ারিংয়ের জন্য নির্ধারিত বিপজ্জনক এলাকার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, পাহাড়তলী, আকবর শাহ ও হালিশহর থানা এলাকার উপকূলীয় অংশ। সমুদ্রের আকাশ বরাবর এই বিপজ্জনক এলাকার উত্তর ও দক্ষিণ সীমানার বিস্তৃতি প্রায় ১২ হাজার গজ, অর্থাৎ প্রায় ৬ দশমিক ৮ মাইল। আর এলাকাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।
ফলে ফায়ারিং চলাকালে ওই নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানকে নির্ধারিত ফায়ারিং রেঞ্জ এবং এর আশপাশের বিপজ্জনক এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পাইলটের সহায়তা নিয়ে আরও সতর্কতার সঙ্গে নৌযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ড্রাফট অনুযায়ী নৌযান পরিচালনা এবং দক্ষ নাবিক বা চালকের মাধ্যমে নৌযান চালানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুধু ফায়ারিংয়ের সময় নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও নৌযানগুলোকে নিরাপদ স্থানে ভিড়িয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নৌযানে প্রয়োজনীয় বাতি জ্বালানো, কুয়াশায় সতর্কতামূলক সংকেত দেওয়া এবং ঘণ্টা বাজানোর মতো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ ১৯ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ও হালিশহর উপকূলীয় এলাকায় নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। নির্ধারিত বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশ করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন