ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে মোদির সঙ্গে ত্রিবেদীর ‘খুব ভালো’ ও ‘দীর্ঘ’ বৈঠক শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার চাইলেন রাশেদ খাঁন জঙ্গল সলিমপুরের পাশে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রাজধানীতে, পুলিশের লাঠিপেটা পাকিস্তানি সেনারা সৌদি আরবে অবস্থান করছেন: পাকিস্তান সেনাবাহিনী গাঢ় নীল পোশাকে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন জয়া আহসান রোলারের চাপায় ৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি ভারতের সঙ্গে শত্রুতা আমাদের প্রত্যাশা নয়, প্রশ্ন হচ্ছে ‘স্বার্থ সুরক্ষা’: নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত পর্দার ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’ এবার বাস্তবেও মন্ত্রীর মর্যাদায়

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যত গড়াচ্ছে, ততই সামনে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বড় চিত্র। শুধু যুদ্ধবিমান নয়, ড্রোন, হেলিকপ্টার
  • আপলোড সময় : ৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:২৬ সময়
  • আপডেট সময় : ৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:২৬ সময়
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যত গড়াচ্ছে, ততই সামনে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বড় চিত্র। শুধু যুদ্ধবিমান নয়, ড্রোন, হেলিকপ্টার ও গোয়েন্দা বিমান মিলিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৮১টি আকাশযান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এসব ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।


কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া আকাশযানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান এবং একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টিলথ যুদ্ধবিমান। গত ৩ মার্চ কুয়েতে নিজেদের ভুলেই তিনটি এফ-১৫ই ভূপাতিত হয়। এরপর এপ্রিলে ইরানে আরও একটি এফ-১৫ই ভূপাতিত হওয়ার তথ্য রয়েছে। এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ইরানের হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পরে সেগুলো উদ্ধার করে আবারও সামরিক সেবায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন বহর। অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য ৩ থেকে ৫ কোটি ডলার। ফলে মার্কিন বিমানবাহিনীর রিপার ড্রোনের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৫টিতে, যেখানে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যা ১৮৯টি। এর বাইরে গত ১৯ মার্চ ইরানের হামলায় প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের একটি এফ-৩৫এ এবং প্রায় ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি গোয়েন্দা বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়। এছাড়া এপ্রিলে একটি এবং সেপ্টেম্বরের জর্ডান হামলায় আরও একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তালিকা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া আকাশযানের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ, দুটি এ-১০ আক্রমণাত্মক বিমান, সাতটি কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, একটি ই-৩ সেন্ট্রি গোয়েন্দা বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে বিশেষ অভিযান বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধার হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক হেলিকপ্টার।


শুধু আকাশযান হারানোর ক্ষতিই নয়, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী, গত মাসে এই যুদ্ধের মোট খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। আগস্টের তুলনায় যা প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বেশি। একই সময়ে অস্ত্রের পেছনে মার্কিন ব্যয়ও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে অস্ত্র বাবদ ব্যয় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ইরান যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং যুদ্ধের আর্থিক চাপ। বিশেষ করে উন্নত যুদ্ধবিমান ও বিপুলসংখ্যক রিপার ড্রোন হারানোর বিষয়টি মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ