রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মারধর ও পরবর্তী গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মারধরের শিকার তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনকে পূর্বের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন হামলার ঘটনাকে ‘মব সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই শিক্ষার্থীকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত একটি মামলায় আটক দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এক ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রক্টর কার্যালয়ে বৈঠকের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরদিন একই বিষয় নিয়ে আবার আলোচনা চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এক শিক্ষার্থীকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ তুলে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রাকসু ভবন ও পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং হামলার ঘটনা ঘটে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীও আহত হন। পরে শিক্ষক, পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন পৃথক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন সহিংসতা শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
অন্যদিকে, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন