ইয়েমেনে দীর্ঘ চার বছর ধরে বজায় থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও সংঘাতের আগুন জ্বলে উঠেছে। ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, তাদের নিয়ন্ত্রিত রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি বাহিনীর বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছিল হামলার মূল লক্ষ্য। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই সৌদি ভূখণ্ডে তাদের প্রথম বড় ধরনের হামলা।
এর আগে বিদ্রোহীরা অভিযোগ করেছিল, রাজধানীর বিমানবন্দরের রানওয়েতে বোমাবর্ষণ করে উত্তেজনা কমানোর সব প্রচেষ্টা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তারা এই ঘটনাকে প্রকাশ্য আগ্রাসন উল্লেখ করে প্রতিশোধের ঘোষণা দেয় এবং বিমানবন্দরের অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আকাশপথ ব্যবহার না করার জন্য বিভিন্ন বিমান সংস্থাকে সতর্ক করে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ রানওয়েতে হামলার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, একটি বিদেশি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টার কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং এ ধরনের ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট বিদেশি পক্ষকেই বহন করতে হবে।
পরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই বিমানটি শেষ পর্যন্ত লোহিত সাগর উপকূলের তাদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে। এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে রাজধানীর বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থার একটি বিমান আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংস্থাটির আঞ্চলিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিমানের কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবাই নিরাপদ রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত শুধু ইয়েমেনের মানবিক সংকটই আরও গভীর করবে না, বরং লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি পথেও নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন