দেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ব্যক্তি ও পরিবার—উভয় পর্যায়েই মোবাইল ফোন, স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন এবং ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে। এছাড়া ১১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করেন। পরিবার পর্যায়ে চিত্র আরও ইতিবাচক। দেশের ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারের অন্তত একটি মোবাইল ফোন রয়েছে, ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারের রয়েছে স্মার্টফোন এবং ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ ২০২৫-২৬’-এর তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফলে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরিপটি দেশের ৬৪ জেলার ৬১ হাজারের বেশি পরিবারের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। প্রান্তিকভিত্তিক তুলনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের শুরুতে মোবাইল ব্যবহারকারীর হার ছিল ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারও ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে। কম্পিউটার ব্যবহারকারীর হারও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায়ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এক বছরে এই হার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, দেশের ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারের টেলিভিশন, ১৫ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের রেডিও এবং ৯ শতাংশ পরিবারের কম্পিউটার রয়েছে। অন্যদিকে স্থায়ী টেলিফোন ব্যবহার এখন খুবই সীমিত; মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারে এ ধরনের সংযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোনের বিস্তার, মোবাইল ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের কারণে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন