পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অনুভূত এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৯, যা ব্যাপকভাবে অনুভূত হলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ভূতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের একটি শহরের কাছাকাছি এলাকায়। ভূপৃষ্ঠের বেশ গভীরে এর কেন্দ্র হওয়ায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হলেও সুনামির ঝুঁকি তৈরি হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই দেশটির সরকার জরুরি তৎপরতা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন। সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, এখন পর্যন্ত কোনো নাগরিকের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় সুনামির আশঙ্কাও নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে মূল্যায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হওয়ায় জাপানে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণত উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত অঞ্চলের কোনো পারমাণবিক কেন্দ্রে অস্বাভাবিকতা বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির তথ্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে দেশটির পরিবহন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সংযোগকারী দ্রুতগতির ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রেলপথ ও অবকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে উন্নত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা থাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবুও পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন