ঢাকা | |

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় আধা কিলোমিটার
  • আপলোড সময় : ১১ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৫৯ সময়
  • আপডেট সময় : ১১ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৫৯ সময়
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় আধা কিলোমিটার কাঁচা সড়কে ইট ও বালু ফেলে দ্রুত চলাচল উপযোগী করে তোলে। তবে সফর শেষে ওই সড়ক থেকে ইট অপসারণের ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি প্রস্তুত করতে ভাড়া করা ইট ব্যবহার করে অস্থায়ীভাবে সোলিং করা হয়। পরে সফর শেষে সেই ইট সরিয়ে নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কোনো স্থায়ী সড়ক নির্মাণকাজ ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে সড়কটি চলাচল উপযোগী করা হয়েছিল। তবে সরকারি অর্থায়নে ভাড়া করা উপকরণ ব্যবহার করে এ ধরনের অস্থায়ী নির্মাণ নিয়ে আইনগত ও নীতিগত প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।


স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে জিয়াবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক পাকাকরণের জন্য আগে থেকেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া রয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে, যেখানে সড়কটি কার্পেটিং করার পরিকল্পনা রয়েছে।


জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তিনি তার পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ী পরিদর্শন করেন। ওই সফরকে সামনে রেখে সড়কটি দ্রুত চলাচল উপযোগী করতে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল।


সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটির স্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্প আগে থেকেই অনুমোদিত থাকায় দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য নয়, বরং সাময়িক প্রয়োজনে প্রায় ১০ লাখ টাকার ভাড়া ইট ব্যবহার করা হয়। সফর শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেই ইট অপসারণ করা হয়। এলজিইডির বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণের জন্য বরাদ্দ আগেই অনুমোদিত ছিল। তাই অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করা ইট পরে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো ক্রয় করা হয়নি, বরং ভাড়াভিত্তিক ব্যবস্থায় আনা হয়েছিল।


অস্থায়ী সোলিংয়ের দায়িত্বে থাকা আতিকুর রহমান জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী ভাটা থেকে ইট এনে সড়কে বিছানো হয়েছিল এবং পরে সেগুলো আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এতে অতিরিক্ত অপচয় হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে এবং সীমানাসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।


স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির স্থায়ী উন্নয়নের দাবি ছিল। এখন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী হলেও সাময়িক এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। অন্যদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুপ্র) বগুড়ার সম্পাদক কে জি এম ফারুক বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন করে অস্থায়ী ব্যয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তাঁর মতে, সফরকেন্দ্রিক এ ধরনের ব্যয় স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের অনার্স কোর্স বাতিল হচ্ছে

বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের অনার্স কোর্স বাতিল হচ্ছে