মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা ১১তম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পুনরুদ্ধারের কূটনৈতিক উদ্যোগে অগ্রগতি না হওয়ায় সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, বুধবার ভোরে রাজধানী তেহরানসহ দেশের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, সর্বশেষ অভিযানে বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এদিকে সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি পাকিস্তান সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করলেও নতুন কোনো সমঝোতার আভাস পাওয়া যায়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী। হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে কোনো আগ্রহ নেই। একই সঙ্গে তিনি ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশেও হামলার ইঙ্গিত দেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, তেহরানের পাশাপাশি বুশেহর, পূর্ব আজারবাইজান, হামাদান, হরমুজগান, খুজেস্তান এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। এর আগে হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর জাহাজটির নাবিকরা সেটি ত্যাগ করতে বাধ্য হন। একই সময়ে বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েত থেকেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানের পেট্রোলের গড় মূল্যও প্রতি গ্যালনে ৪ ডলারে পৌঁছেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। তবে পেন্টাগনের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, আহত সেনার সংখ্যা ৪৮২।
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, সতর্কবার্তার পর ছয়টি জাহাজ রুট পরিবর্তন করেছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের সমুদ্র বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালীতে আরেকটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। অন্যদিকে সেন্টকমের দাবি, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আটটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি জাহাজ অচল হয়ে পড়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন