বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক সমঝোতার আওতায় শুল্ক সুবিধা পেয়ে বিদেশি হিমায়িত মুরগির মাংস দেশে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলে দেশীয় পোলট্রি শিল্প বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মুরগির বিভিন্ন অংশ আলাদা করে বাজারজাত করা হয়। সেখানে বুকের মাংসের চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি হলেও রানের মাংস অনেক কম দামে বিক্রি করা হয়। ফলে সেই কমদামি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হলে বাংলাদেশের মতো দেশের উৎপাদকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের দাবি, বিদেশ থেকে আসা হিমায়িত মুরগির রানের দাম স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত মুরগির তুলনায় অনেক কম হওয়ায় রেস্তোরাঁ ও সুপারশপসহ বিভিন্ন ক্রেতা সহজেই আমদানিনির্ভর হয়ে উঠতে পারেন। এর ফলে দেশীয় খামারিদের বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন, পরিবহন, জবাই ও প্রক্রিয়াজাত করার পর প্রতি কেজির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অন্যদিকে বিদেশি মুরগির রানের আমদানি মূল্য তুলনামূলক কম থাকায় বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতায় স্থানীয় উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়তে পারেন।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালা অনুযায়ী কোনো দেশ যদি উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম দামে পণ্য রপ্তানি করে এবং তাতে আমদানিকারক দেশের শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে সেই পণ্যের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চুক্তিতেও অন্যায্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের অধিকার সংরক্ষিত আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ ধরনের শুল্ক আরোপের আগে সরকারকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে প্রকৃতপক্ষে অন্যায্য মূল্য নির্ধারণ বা ডাম্পিংয়ের ঘটনা ঘটছে। অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, বিদেশি বাজারে মুরগির বিভিন্ন অংশের দামের বৈষম্য বিশ্লেষণ করলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে আমদানিকৃত হিমায়িত মুরগির ওপর বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ও কর কার্যকর থাকলেও নতুন চুক্তির ফলে সেগুলো শূন্যে নেমে এলে দেশীয় শিল্প আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পোলট্রি খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো খামারি ও শ্রমজীবী পরিবারের জীবিকা এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থাসহ উপযুক্ত নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন