স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উন্নয়নকাজে বহিরাগত ঠিকাদারদের আধিপত্য এবং কাজ বারবার হাতবদলের কারণে গ্রামীণ অবকাঠামোর গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্যরা স্থানীয় ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালিত হয়।
আলোচনায় সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বলেন, এলজিইডির মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ হলেও অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঠিকাদার নিয়মিত তদারকি করেন না এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কেও যথেষ্ট ধারণা রাখেন না। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কাজ একাধিকবার হাতবদল হওয়া। মূল ঠিকাদার কাজ নিয়ে পরে তা বিভিন্ন ধাপে অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেন। এতে প্রকল্পের অর্থ কমে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করা হয়, ফলে গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধি অনুযায়ী এলজিইডির কাজ সম্পন্ন করা হয়। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে টেন্ডারে স্থানীয় ঠিকাদাররা অংশ নিতে পারেন, তবে উন্মুক্ত দরপত্রে দেশের যেকোনো যোগ্য ঠিকাদার অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের বাস্তব সমস্যাগুলো সরকার অবগত আছে এবং কাজের হাতবদল ও নিম্নমানের নির্মাণ রোধে বিদ্যমান সরকারি ক্রয় বিধিমালা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় যোগ্য ঠিকাদারদের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্পূরক আলোচনায় সংসদ সদস্য ই-জিপি ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ঠিকাদার কাগজে শক্তিশালী প্রোফাইল দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের কাজ নিলেও বাস্তবে তারা কাজ না করে অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেন, যার ফলে শেষ ধাপে নিম্নমানের কাজ হয়। জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার সচেতন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। গ্রামীণ অবকাঠামোর মান উন্নয়নে এবং প্রকৃত ঠিকাদারদের ন্যায্য সুযোগ দিতে ক্রয় ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন