ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ চুক্তি বাতিল, নতুন করে ঋণ চাইল সরকার

বিগত সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে করা বিদ্যমান ঋণচুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে
  • আপলোড সময় : ১ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৪৫ সময়
  • আপডেট সময় : ১ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৪৫ সময়
আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ চুক্তি বাতিল, নতুন করে ঋণ চাইল সরকার

বিগত সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে করা বিদ্যমান ঋণচুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে সংস্থাটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গত ২১ মে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সমঝোতা হয়।


পরবর্তীতে ২৭ মে সংস্থাটির বাংলাদেশ মিশন প্রধান এক বিবৃতিতে জানান, বাংলাদেশ সরকার নতুন একটি ঋণ কর্মসূচির জন্য আবেদন করেছে। এ বিষয়ে সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা চলছে। দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করলে বর্তমান সরকার বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের নতুন অগ্রাধিকারগুলো বিবেচনায় এনে কর্মপরিকল্পনা পুনর্গঠনের সুযোগও তৈরি হবে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থার সংস্কার, কর অব্যাহতি কমানো, কর প্রশাসনের আধুনিকীকরণ এবং ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করার মতো বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় বিদ্যমান কর্মসূচি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থার অসন্তোষ রয়েছে।  সরকারি সূত্র বলছে, বর্তমান কর্মসূচির অবশিষ্ট অর্থ ছাড়ের পরিবর্তে নতুন ঋণ কর্মসূচি চালুর যৌক্তিকতা তুলে ধরে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে। নতুন কর্মসূচির সম্ভাব্য আকার ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে।


নতুন চুক্তির আওতায়ও বিভিন্ন সংস্কার শর্ত থাকবে। এসব বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী অর্থবছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে আসতে পারে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, নতুন কর্মসূচিতে গেলেও রাজস্ব বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের মতো বিষয়গুলো সামনে আসবে। বরং নতুন কর্মসূচিতে আরও কঠোর শর্ত আরোপের সম্ভাবনাও রয়েছে।


তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোসহ কিছু শর্ত দেশের অর্থনীতির জন্য কতটা সহনীয় হবে, সে বিষয়ে সরকারের আলোচনার সুযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এসব বিষয়ে নতুন করে সমঝোতার চেষ্টা করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে ঋণ সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ২০২৩ সালে ঋণ কর্মসূচি অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। বাকি অর্থ ছাড় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মিয়ানমারে খনির বিস্ফোরক গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৪৫

মিয়ানমারে খনির বিস্ফোরক গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৪৫