দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নৃশংস ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার ও শিশু অধিকার সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাড়ে চার মাসেই সারা দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অন্তত ১৭ শিশুকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়— রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা ছাড়া শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কমানো সম্ভব নয়। তারা শিশু সুরক্ষায় আলাদা কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন এবং অপরাধীদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত অন্তত ৪৬ শিশু ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি ঘটনা শুধু একটি শিশুর জীবন ধ্বংস করছে না, বরং পুরো সমাজের নিরাপত্তাহীনতা ও মানবিক সংকটকে সামনে নিয়ে আসছে। ডা. এস এম আতিকুর রহমান বলেন, বিদেশে এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত করা হলেও বাংলাদেশে সেই সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। ফলে শিশুরা অনিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠছে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভয় বা অনুশোচনার অভাব তৈরি হচ্ছে।
এদিকে খন্দকার ফারজানা রহমান মনে করেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর “চাইল্ড প্রোটেকশন কমিশন” গঠন জরুরি। তার মতে, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিশু সুরক্ষার আওতায় এনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শিশু সুরক্ষা শুধু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের নৈতিক অস্তিত্বের সঙ্গেও জড়িত। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকর উদ্যোগ, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া এ পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন হবে।
সংবিধানের ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদে শিশুদের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবতায় শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতা বাড়ছেই। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবেও শিশু সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন