বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নগরী মেক্সিকো সিটি দ্রুতগতিতে ভূমিধসের শিকার হচ্ছে, যা এখন মহাকাশ থেকেও স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার উন্নত রাডার প্রযুক্তিতে ধারণ করা সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা গেছে, শহরের কিছু অংশ প্রতি মাসে অর্ধ ইঞ্চির বেশি নিচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা এটিকে বিশ্বের দ্রুততম ডুবে যাওয়া নগরীগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করছেন। প্রায় দুই কোটি বিশ লাখ মানুষের এই নগরীটি গড়ে উঠেছে প্রাচীন একটি হ্রদের ওপর। শহরের পানির চাহিদার বড় একটি অংশ ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে পূরণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে ওই জলাধার দুর্বল হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মাটির স্থিতিশীলতার ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানি কমে যাওয়ার কারণে মাটির নিচের স্তর ধীরে ধীরে বসে যাচ্ছে। পাশাপাশি দ্রুত নগরায়ণ এবং নতুন ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণের চাপ কাদামাটিযুক্ত ভূমিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। ইতিহাস অনুযায়ী, এই নগরীতে ভূমিধসের সমস্যা নতুন নয়। প্রায় এক শতাব্দী আগে থেকেই ধীরে ধীরে এই পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে এর প্রভাবে রাস্তাঘাটে ফাটল, ভবন হেলে পড়া এবং পরিবহন ব্যবস্থায় ক্ষতির মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সম্প্রতি উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। এই প্রযুক্তি মাটির সামান্য পরিবর্তনও শনাক্ত করতে সক্ষম। চলতি পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে শহরের কিছু অংশ প্রতি মাসে প্রায় ০.৮ ইঞ্চি পর্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে, যা বছরে প্রায় সাড়ে ৯ ইঞ্চির সমান। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা এলাকার মধ্যে রয়েছে প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং শহরের একটি বিখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভ, যার ভিত্তিতে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত নির্মাণকাজ করতে হয়েছে।
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের স্যাটেলাইট প্রযুক্তি শুধু ভূমিধস নয়, বরং হিমবাহের পরিবর্তন, কৃষিজমির রূপান্তর এবং আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন