ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’-কে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, এই আদেশকে তারা রাজনৈতিক প্রতারণার দলিল হিসেবে দেখছেন এবং এটি শুরু থেকেই আইনি ভিত্তিহীন।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন নিয়ে যেকোনো উদ্যোগ সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করে সমঝোতার ভিত্তিতে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত পথ। পরে সংসদে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা থাকবেন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হবে।
আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা হলো দেশে আর কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ যেন ফিরে না আসে। তিনি দাবি করেন, অতীতের নির্বাচনগুলোতে জনগণের ভোটাধিকার বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রোধ করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
অন্যদিকে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সংবিধান পরিবর্তন করা গেলেও তা ছুড়ে ফেলার মতো প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে সংসদে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্ক তৈরি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একে অপরের অবস্থানের সমালোচনা করে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরে।
সার্বিকভাবে, ‘জুলাই সনদ’ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া এখন সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন