নরসিংদীর নদীগুলো এখন ভয়াবহ দূষণের শিকার। শীতলক্ষ্যা, ব্রহ্মপুত্র, হাঁড়িধোয়া, আড়িয়াল খাঁসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো ঘিরে একসময় ছিল নৌবাণিজ্য ও জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ পরিবেশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পকারখানার বিস্তার এবং অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ায় পরিস্থিতি এখন সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত তরল বর্জ্য নিয়মিতভাবে নদীর পানিতে মিশছে। এতে পানির অক্সিজেন কমে যাচ্ছে, ফলে মাছসহ জলজ প্রাণীর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাঁড়িধোয়া নদীকে সবচেয়ে বেশি দূষিত নদীগুলোর মধ্যে ধরা হচ্ছে। পানির মান এতটাই খারাপ যে তা মানব ব্যবহার তো দূরের কথা, পশুপাখির জন্যও অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। একসময় এসব নদীতে রুই, কাতলা, বোয়ালসহ নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন অনেক এলাকায় মাছ প্রায় বিলুপ্ত, বর্ষা বা শীত মৌসুমে মৃত মাছ ভেসে উঠার ঘটনাও দেখা যায়। নদীর দুই তীরের বাসিন্দারা বলছেন, দূষণ চলতে থাকলে তাদের জীবনযাত্রা ও জীবিকা দুটোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলছেন, নদীর এই অবস্থা শুধু জীববৈচিত্র্য নয়, পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। হাঁড়িধোয়া নদীতে তীব্র দূষণের কারণে চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় পরিবেশ সংগঠনগুলো দাবি তুলেছে, শিল্পকারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নদীগুলো পুনরুদ্ধার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দূষণের কারণ অনুসন্ধান ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে নরসিংদীর নদীগুলো এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে আছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে এই নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন