নেপালে দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হচ্ছে। সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী দীপক খাড়কাকে অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দৈনিক ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৯ মার্চ) সকালে তাকে আটক করা হয় বলে এএফপি জানায়। এর একদিন আগে একই অভিযোগ ও আন্দোলন দমনে ভূমিকার কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়। নেপালের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর মুখপাত্র শিব কুমার শ্রেষ্ঠ জানান, অর্থ পাচার সংক্রান্ত তদন্ত এখন দেশের কেন্দ্রীয় তদন্ত বিভাগ তদারকি করবে।
নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আন্দোলনের সময় খাড়কার বাসভবন থেকে উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবেই তাকে আটক করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হলেও পরে তা দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটবিরোধী বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নেয়। সহিংসতার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দমন-পীড়নে অন্তত ৭৬ জন নিহত হন।
আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন ও সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করেন এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটে। সাবেক মন্ত্রী খাড়কার বাসভবনেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়, যেখানে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নগদ অর্থ ছুড়ে ফেলার দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় চলতি মাসে নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বড় বিজয় অর্জন করে। দলটির নেতা, র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বালেন্দ্র শাহ গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর পরপরই সাবেক শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়, যা নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
সূত্র: এএফপি, নেপাল পুলিশ ও তদন্ত কমিশন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন