২০১৩ সালের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধস থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা নাসিমা বেগম এবার আর রক্ষা পেলেন না। দিনাজপুরের পার্বতীপুরের এই নারী পদ্মা নদীতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গত বুধবার বিকেলে ঢাকা যাওয়ার পথে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নাসিমা বেগম, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছর বয়সী শিশু আব্দুর রহমান। দুর্ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন তারা ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাসে উঠেছিলেন। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে গেলে মুহূর্তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকিদের বাঁচানো যায়নি। আরও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে দুর্ঘটনার পর। নিহতদের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে।
নাসিমা বেগমের জীবন ছিল দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। রানা প্লাজা ধসে ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার পরও জীবিকার তাগিদে আবারও ঢাকার পথে ফিরতে হয়েছিল তাকে। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। পুরো এলাকায় এই ঘটনা গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে, যেখানে এক জীবনের বেঁচে ফেরা ইতিহাস শেষ হলো এক করুণ সড়ক-নদী দুর্ঘটনায়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন