ঢাকা | |

৪ যুগের পুরোনো ১টিসহ রেলবহরে যুক্ত হলো ৫ লোকোমোটিভ

পার্বতীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলের প্রধান ও বৃহত্তম লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র—কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা) পাঁচটি রেল ইঞ্জিনের মেরামত কাজ
  • আপলোড সময় : ১৬ মার্চ ২০২৬, দুপুর ৪:৭ সময়
  • আপডেট সময় : ১৬ মার্চ ২০২৬, দুপুর ৪:৭ সময়
৪ যুগের পুরোনো ১টিসহ রেলবহরে যুক্ত হলো ৫ লোকোমোটিভ

পার্বতীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলের প্রধান ও বৃহত্তম লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র—কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় (কেলোকা) পাঁচটি রেল ইঞ্জিনের মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাজেট ও জনবল সংকটের মধ্যেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় ইঞ্জিনগুলো মেরামত শেষ করে ঈদযাত্রা উপলক্ষে গতকাল রোববার রেলবহরে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে পাঁচটি ডিজেলচালিত লোকোমোটিভের জেনারেল ওভারহোলিং কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব ইঞ্জিনের মেরামত সম্পন্ন করে রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার মেকানিক্যাল শাখায় অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৫৫৯ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩৩ জন। প্রতি মাসেই গড়ে এক থেকে দুজন কর্মী অবসরে যাওয়ায় সীমিত জনবল নিয়েই কারখানার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।


কারখানা সূত্র আরও জানায়, গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৬টি রেল ইঞ্জিনের ভারী মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে অকেজো হয়ে থাকা কয়েকটি ইঞ্জিনও মেরামত করে পুনরায় চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এমনকি ১৯৭৮ সালে তৈরি প্রায় ৪৮ বছর পুরোনো একটি ইঞ্জিনও মেরামত করে এবারের ঈদযাত্রায় রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে। একটি রেল ইঞ্জিনে প্রায় ৩৪ হাজারেরও বেশি যন্ত্রাংশ থাকে। এসব ইঞ্জিন মেরামতের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে হয়। সাধারণত একটি রেল ইঞ্জিনের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল প্রায় ২০ বছর। আয়ুষ্কাল শেষ হলে প্রতি ছয় বছর পরপর জেনারেল ওভারহোলিংয়ের জন্য ইঞ্জিনগুলো পার্বতীপুরের এই কারখানায় পাঠানো হয়।


বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রেলওয়ের মোট লোকোমোটিভ সংখ্যা ২৯৪টি। এর মধ্যে ব্রডগেজ ১০৮টি এবং মিটারগেজ ১৮৬টি। এসব ইঞ্জিনের মধ্যে প্রায় ১৫০টির আয়ুষ্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ব্রডগেজ ৬০টি এবং মিটারগেজ ৮০টি। বর্তমানে রেলবহরে ৬৭ বছর পুরোনো ৮টি মিটারগেজ ইঞ্জিন এখনো চালু রয়েছে। ১৯৯২ সালে সৌদি সরকারের অর্থায়নে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বতীপুরে ১১১ একর জমির ওপর ডিজেলচালিত রেল ইঞ্জিনের জেনারেল ওভারহোলিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা স্থাপন করা হয়।


কারখানার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ হাসানুজ্জামান বলেন, সীমিত বাজেট ও জনবল নিয়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রচেষ্টায় ১৬টি ইঞ্জিনের ভারী মেরামত সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বাজেট ও দক্ষ জনবলের অভাবে কারখানার বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাচ্ছে না। প্রতি অর্থবছরে ৩০টি ইঞ্জিনের ভারী মেরামতের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে ১৮ থেকে ২০টির বেশি সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
১ মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, মাঠে নামবেন কবে

১ মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, মাঠে নামবেন কবে