ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশ দুটি যৌথভাবে চালানো এই সামরিক অভিযান সোমবার (১৬ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১৭ দিনে গড়িয়েছে। সংঘাতের এই প্রেক্ষাপটে হামলার নেপথ্য কারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরানে হামলা শুরুর পেছনে ইসরায়েলের পাশাপাশি সৌদি আরবেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দুই দেশের চাপেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জোরালো হয়।
রয়টার্সের তথ্যমতে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে সবসময় কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিতেন এবং বলতেন, ইরানে হামলার জন্য সৌদি আরবের ভূখণ্ড ব্যবহার করা যাবে না। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি ভিন্ন বার্তা দিতেন বলে দাবি করা হয়েছে। সেসব আলোচনায় সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয়, তবে পরিস্থিতির পরিণতি আরও জটিল ও বিপজ্জনক হতে পারে।
এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আরও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। রোববার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উৎসাহিত করেছেন সৌদি যুবরাজ। হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আরব নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং সাম্প্রতিক আলোচনাগুলোতে ইরান প্রসঙ্গই প্রধান হয়ে উঠেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আলোচনায় সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন এখন প্রায়ই সৌদি আরবের প্রয়াত রাজা আব্দুল্লাহর একটি পুরোনো পরামর্শের কথা শুনছে—যেখানে বলা হয়েছিল, শত্রুর মূল উৎস বা নেতৃত্বকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করাই দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের সমাধান হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে এই কূটনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে বড় আকার ধারণ করতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন