ঢাকা | |

সমতলে বাড়ছে পাহাড়ি হলুদের কদর, বাণিজ্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকার

রান্নার অন্যতম প্রধান মসলা হলুদ। রান্নার স্বাদ, রঙ ও সুগন্ধ তৈরিতে এর বিকল্প নেই বললেই চলে। ভালো হলুদ
  • আপলোড সময় : ১৪ মার্চ ২০২৬, দুপুর ২:১৭ সময়
  • আপডেট সময় : ১৪ মার্চ ২০২৬, দুপুর ২:১৭ সময়
সমতলে বাড়ছে পাহাড়ি হলুদের কদর, বাণিজ্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকার

রান্নার অন্যতম প্রধান মসলা হলুদ। রান্নার স্বাদ, রঙ ও সুগন্ধ তৈরিতে এর বিকল্প নেই বললেই চলে। ভালো হলুদ মানেই সুস্বাদু রান্না—এই কারণেই রাঁধুনিরা সবসময় উন্নত মানের হলুদ সংগ্রহে আগ্রহী থাকেন। পার্বত্য জেলা রাঙামাটি–তে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে জুম চাষের সঙ্গে হলুদের আবাদ করে আসছেন। পাহাড়ি মাটি ও আবহাওয়া মসলাজাতীয় ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানকার হলুদ রঙ, স্বাদ ও সুগন্ধে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এই পাহাড়ি হলুদ এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা–সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে এই মসলা। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে স্থানীয় কৃষকেরা পাহাড়ের পাদদেশ ও বাড়ির আঙিনায়ও বাণিজ্যিকভাবে হলুদের চাষ বাড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে রাঙামাটিতে হলুদের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।


সাধারণত চৈত্র ও বৈশাখ মাসে পাহাড়ে হলুদের চাষ শুরু হয়। পরে ফাল্গুন মাস থেকে হলুদ সংগ্রহ করে শুকানো হয়। শুকনো হলুদ বাজারে নিয়ে আসেন চাষিরা। স্থানীয় পাইকাররা সেগুলো কিনে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। বর্তমানে প্রতি কেজি শুকনো হলুদ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। আর মানভেদে প্রতি মণ হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। জেলার সবচেয়ে বড় হলুদের বাজার কুতুকছড়ি হাট, যেখানে প্রতিদিন স্থানীয় ও বাইরের পাইকারদের ভিড় থাকে।


স্থানীয় হলুদ চাষি বিক্রম চাকমা জানান, গত বছরের মতো এ বছরও ভালো দাম পাচ্ছেন তারা। মানভেদে প্রতি মণ শুকনো হলুদ ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হলুদ ব্যবসায়ী জাফর সাদিক বলেন, পাহাড়ি হলুদের রঙ ও স্বাদ সমতলের হলুদের চেয়ে আলাদা। এ কারণেই এর চাহিদা বেশি। কয়েক বছর ধরে তিনি এখান থেকে হলুদ সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাঙামাটিতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন হলুদ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় কম খরচে এবং কম শ্রমে হলুদ চাষ করা সম্ভব হওয়ায় এটি এখন কৃষকদের জন্য লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ বাড়ানো গেলে উৎপাদন আরও বাড়বে এবং দেশের আমদানি নির্ভরতা কমবে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
১ মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, মাঠে নামবেন কবে

১ মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, মাঠে নামবেন কবে