চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নে অবস্থিত শতবর্ষী হরিপুর জমিদার (চৌধুরী) বাড়ি এখন সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাওয়ার পথে। জমিদার বংশের অধিকাংশ সদস্য মৃত্যুবরণ বা অন্যত্র চলে যাওয়ায় বর্তমানে এখানে মাত্র কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে। সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এই জমিদার বাড়ির স্থাপত্যে রয়েছে শৈল্পিক নকশা ও পুরনো দিনের নির্মাণশৈলীর ছাপ। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি ভ্রমণপ্রেমী ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য আকর্ষণীয় একটি স্থানে পরিণত হতে পারে।
সরেজমিনে জানা যায়, বাড়িটিতে রয়েছে একাধিক পুকুর, পুকুরঘাট, মসজিদ, জমিদার পরিবারের কবরস্থান, এতিমখানা, ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং স্থানীয় বাজার। পুরো এলাকাটি শান্ত ও নিরিবিলি, চারদিকে ছায়াঘেরা গাছপালা। বাড়ির বাসিন্দা গোফরান চৌধুরী জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা প্রায় একশ বছর এই বাড়িতে বসবাস করেছেন। তাদের মধ্যে মরহুম কামিজ রাজা, জমিদার মৌলভী মতিরাজা, উমেদ রাজা ও মুহাম্মদ রাজাসহ কয়েকজন জমিদার এই এলাকায় খাজনা সংগ্রহ করতেন এবং অনেক সম্পত্তির মালিক ছিলেন।
আরেক বাসিন্দা ইমরুল হুদা চৌধুরী বলেন, বর্তমানে পরিবারের অনেক সদস্য চাঁদপুর শহর, ঢাকা, চট্টগ্রাম এমনকি যুক্তরাজ্যেও বসবাস করেন। কেউ কেউ বছরে একবার পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করতে এখানে আসেন। তবে বাড়ির পুরোনো ভবনগুলো সংরক্ষণ করার মতো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম–এর সিনেমা ‘পাপ-পুণ্য’–এর শুটিংও এই বাড়িতে হয়েছিল। দর্শনার্থী এমরান হোসেন বলেন, পুরোনো স্থাপত্য ও নকশা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। তার মতে, দ্রুত সংরক্ষণ না করলে জমিদারদের ঐতিহাসিক স্মৃতিগুলো হারিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন জামিউল হিকমা জানান, জমিদার বাড়িটি ঐতিহ্যবাহী এবং সুন্দর একটি স্থাপনা। এটি সংরক্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন