ঢাকা | |

লাভে রাশিয়া, চাপে বাংলাদেশসহ বহু দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য পথ এবং বিভিন্ন
  • আপলোড সময় : ১৪ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৫৮ সময়
  • আপডেট সময় : ১৪ মার্চ ২০২৬, সকাল ৯:৫৮ সময়
লাভে রাশিয়া, চাপে বাংলাদেশসহ বহু দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য পথ এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে। সাধারণত যুদ্ধে খুব কম ক্ষেত্রেই কোনো এক পক্ষ স্পষ্টভাবে জয়ী হয়, কিন্তু এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকেই। এখন বিশ্বের অনেক দেশ সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আবার কেউ কেউ এই অস্থিরতার মধ্যেই কৌশলগত সুযোগ খুঁজছে।


রাশিয়ার সম্ভাব্য লাভ-

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও সামরিক সহযোগী। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড রাশিয়ার জন্য কূটনৈতিকভাবে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে সিরিয়ায় বাসার আল-আসাদের পতন এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও মস্কোর প্রভাব কমার ইঙ্গিত দেয়।তবে এই সংঘাত রাশিয়ার জন্য কিছু সুবিধাও তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক রসদ এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নেওয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধে চাপ কমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাট্রিয়ট মিসাইল ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতি ইউক্রেনের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।


অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে তেলের দাম বেড়ে গেলে রাশিয়া লাভবান হতে পারে। কারণ দেশটির অর্থনীতি অনেকটাই তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদন কমে গেলে চীন ও ভারতের মতো বড় বাজারে রাশিয়ার তেল বিক্রির সুযোগ বাড়তে পারে।


চীনের ওপর প্রভাব-

চীনের ওপর এখনো বড় ধরনের সরাসরি প্রভাব পড়েনি। কারণ দেশটি যে পরিমাণ তেল আমদানি করে তার মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইরান থেকে। তাছাড়া চীন কয়েক মাসের জন্য তেলের মজুতও তৈরি করে রেখেছে এবং প্রয়োজনে রাশিয়ার কাছ থেকে সরবরাহ বাড়াতে পারে। তবে চীনের রপ্তানি নির্ভর শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ২০ শতাংশ আসে রপ্তানি থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে পণ্য পরিবহনের খরচ ও সময় বাড়বে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পাবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত চীনের জন্য কূটনৈতিক সুযোগও তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে একটি বিকল্প বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারে বেইজিং।


উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংকট-

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশ মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যুদ্ধের কারণে এসব দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হচ্ছে।ভিয়েতনামে ইতিমধ্যে ডিজেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সরকার মানুষকে সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে।

ফিলিপিন্স তাদের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা হয়েছে।


পাকিস্তানেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জনগণকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন এবং যেখানে সম্ভব সেখানেই অনলাইনে কাজ ও শিক্ষা চালু করা হয়েছে।বাংলাদেশেও জ্বালানি নিয়ে আতঙ্ক দেখা গেছে। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাড়ির জন্য দৈনিক ১০ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ২ লিটার করে তেল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।


খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি-

এই যুদ্ধের প্রভাব কেবল জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত ইউরিয়ার প্রায় ৩০ শতাংশ পরিবহন করা হয়। সার উৎপাদনে এই ইউরিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।যদি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে আগামী ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতিতে বড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কাতারএনার্জির একটি বড় শোধনাগারে হামলার পর সেখানে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সারের সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন শুধু আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
১ মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, মাঠে নামবেন কবে

১ মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, মাঠে নামবেন কবে