অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের দাখিল করা চার্জশিট আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি এবং সম্পত্তি জব্দের আবেদন করা হয়েছে। আদালত আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৬০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। তদন্তে আরও দেখা গেছে, নিজের নামে এবং তার নাবালিকা কন্যা যাহরা যারীন বিনতে বেনজীরের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পদ রয়েছে। গোপালগঞ্জ, সেন্টমার্টিন, মাদারীপুর ও সাভারে জমি কেনার পাশাপাশি ঢাকার গুলশানের র্যানকন আইকন টাওয়ারে একাধিক ফ্ল্যাট এবং উত্তরায় বাণিজ্যিক স্পেসের মালিকানাও রয়েছে তার।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস গোপন করতে বেনজীর আহমেদ নিজের এবং তার কন্যার নামে মৎস্য ব্যবসা ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ এই মামলাটি দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুদক আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন