নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কেবল আইনের বিষয় নয়; এটি একটি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব—এমন মত প্রকাশ করেছেন নারীনেত্রীরা। তাদের মতে, উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর অধিকার, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা, সমাজ ও পরিবারে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি। তবে বাস্তবে এসব ক্ষেত্রে এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
নারীনেত্রীরা বলছেন, নারীর অধিকার রক্ষায় দেশে বিভিন্ন আইন থাকলেও সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ঘাটতির কারণে অনেক নারী এখনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও নানা উদ্যোগ থাকলেও বাস্তব প্রয়োগে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এই বাস্তবতার মধ্যেই আজ ৮ মার্চ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতা। তিনি উল্লেখ করেন, নারীর চলাচল, পোশাক বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও সামাজিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। একটি শিশু বা তরুণীর সুস্থ বিকাশের জন্য নিরাপদ পরিবেশ প্রয়োজন হলেও তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তিনি সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তার মতে, সরাসরি ও সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনৈতিক দল ও পরিবার—সব জায়গায় এখনো পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব প্রবল। ফলে একজন নারীকে জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নানা বাধা অতিক্রম করে এগোতে হয়। তিনি মনে করেন, পরিবারে বৈষম্যের শিকার না হলে একজন নারী আত্মবিশ্বাস নিয়ে সমাজে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে পারে।
নারীপক্ষের সদস্য শিরিন পারভীন হক বলেন, নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে সরকারের অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নারী কমিশনে প্রায় চারশো সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল, যার বড় অংশ বাস্তবায়ন হলে নারীর অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সমাজের মূলধারায় তাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন