মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিন ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, প্রয়োজনে পুরো অঞ্চলের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় তেল আবিব ও জেরুজালেমে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার আশঙ্কায় সাইরেন বাজানো হয়। একই সময়ে ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবোল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৭০-এর বেশি এবং ইসরায়েলে অন্তত ১১ জন মারা গেছেন। এছাড়া সংঘর্ষে ছয়জন মার্কিন সেনাও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তেল সরবরাহে বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণকারীদের আটকা পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে আশপাশের দেশগুলোও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কাতারে মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের এলাকা খালি করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আকাশে যুদ্ধবিমান টহল দিতে দেখা গেছে এবং কুয়েত উপকূল এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেট জানিয়েছেন, সাবমেরিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজ থেকে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের বিভিন্ন নিরাপত্তা স্থাপনা, সামরিক ভবন এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন