করাচির একটি শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের কর্মকর্তারা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছে।
শনিবার করাচির ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা গুল প্লাজা শপিং মলে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকে। রোববার ভোর নাগাদ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৩০ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
দক্ষিণ করাচির ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রাজা ডন পত্রিকাকে জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা তিন বলা হলেও পরে তা বেড়ে পাঁচে দাঁড়ায়। পরে এধি ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে আরও একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা ছয় জনে পৌঁছায়।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, শপিং মলটিতে প্রায় ১,২০০টি দোকান রয়েছে, যার ফলে ভেতরে এখনও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এধি ফাউন্ডেশন জানায়, আগুনের তীব্রতায় ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গার্ডেন থানার পুলিশ কর্মকর্তা মোহসিন রাজা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একটি দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি জানান। তিনি ভবনটি নিরাপদ করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান, যাতে আরও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।
এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পিটিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় “সব ধরনের সম্ভাব্য ব্যবস্থা” নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
প্রেসিডেন্ট জারদারি করাচির অন্তর্ভুক্ত সিন্ধু প্রদেশের সরকারকে “তাৎক্ষণিক এবং সর্বোচ্চ সহায়তা” দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখা যাবে না।”
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন