জুলাই আন্দোলনে প্রথম শহীদ আবু সাঈদ নিহত হয়েছিলেন রংপুরে। তাই শেখ হাসিনার রায় ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন কর্মসূচিকে ঘিরে রংপুর মহানগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকেছে পুলিশ। এই নিরাপত্তা মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মহানগর পুলিশ।
রোববার ( ১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকেই নগরীর পার্কের মোড় শহীদ আবু সাঈদ চত্বর, টাউন হলে সামনে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ, মর্ডান মোড়, দমদমা, মাহিগঞ্জ, সাতমাথা, সাহেবগঞ্জ, সিগারেট কোম্পানি, দখি গঞ্জ, আমতলী, বুড়িরহাট, হাজিরহাট, সিও বাজার, মেডিকেল মোড় দর্শনা, নজীরের হাট, লাহিরির হাট, টার্মিনাল,বড় বাড়ি, বিনোদপুর সহ ৩৭টি ছোট বড় প্রবেশ মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে মহানগর পুলিশ। সন্দেহ হলেই অটোরিকশা,রিকশা, মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, কার থামিয়ে করা হচ্ছে তল্লাশি।
পুলিশ জানিয়েছে যেকোনো ধরনের নাটকতার চেষ্টা করা হলে তৈরি আছেন তারা। সাথে সাথে তা মোকাবেলা করা হবে। সাদা পুলিশের পাশাপাশি পুরো নাগরীতে অতিরিক্ত সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী নিজে প্রত্যেকটি পয়েন্ট ঘুরে তদারকি করছেন।
শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাশে রাত সোয়া বারোটায় পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিলেন মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাধ তোফায়েল আহমেদ। তিনি জানান, দ্রুত যাদের সন্দেহ হচ্ছে তাদেরকেই তল্লাশি করা হচ্ছে। এটি আতঙ্ক তৈরি করার জন্য নয়। অথবা হয়রানি করার জন্য নয়। নগরবাসীকে সাহস দিতে এই তল্লাশি চলছে। আমরা কোন ধরনের নাটোরকতাকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। নাশকতা করতে চাইলে সাথে সাথেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, নগরীর ছোট বড় ৩৭টি প্রবেশমুখে টহল জোরদার করা হয়েছে। মূল নগরী ছাড়াও অলি গলিতে ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেউ কোন নাশকতা করার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। তিনি জানান, ভোর থেকে এই নিরাপত্তা আরো বাড়ানো হবে। তবে কোন আশঙ্কা বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে মহানগরী ছাড়াও রংপুর জেলা ও বিভাগের আট জেলায় নিরাপত্তা জোরদার কথা আর কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার এবং ডিআইজি।
রংপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু সায়েম জানান, জেলার ৮ উপজেলার প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কেউ কোন ধরনের নাশকতা তৈরি চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
রংপুর ডিআইজি মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে কোথাও কোন আতঙ্কের কারণ নেই।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, এনসিপি, জাতীয় ছাত্র শক্তি, গণ অধিকার পরিষদ, ছাত্র অধিকার পরিষদসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে থেকে আওয়ামী লীগের নাশকতা মোকাবেলা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিএনপি রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি'র সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর রংপুর রংপুর দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, গণ অধিকার পরিষদের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক হানিফ খান সজীব জানিয়েছেন পুরো বিভাগের নেতাকর্মীরা ভোর থেকেই মাঠে থেকে সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক যেকোন কার্যক্রম মোকাবেলা করবে। সকল নেতাকর্মীকে নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সোপর্দ করার নির্দেশনা ও দেয়া হয়েছে দলগুলো থেকে।
রংপুরে রাত একটা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকজন নেতাকর্মী লকডাউন পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন