ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে ভারতের হাজার হাজার সৈন্য রক্ত দিয়ে গেছে: ফজলুর রহমান নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ৫ জনের মৃ/ত্যু ইরানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান অধিবেশন চলাকালে অসুস্থ হওয়া জামায়াত এমপি’র খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী জুলাই থেকে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস দেবে সরকার রাজনীতি শিখুন, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে লাভ নেই: বিরোধী দলকে সেতুমন্ত্রী ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত: চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা ৫ জেলায় ১০০০-৫০০ টাকার নোটের লেনদেন নিয়ে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক

খাগড়াছড়ির রামগড়ে মিনি মৎস্য হ্যাচারি ৭ বছর ধরে বন্ধ: পোনা সংকটে চাষীরা

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার তৈচালা পাড়ায় অবস্থিত মিনি মৎস্য হ্যাচারি দীর্ঘ সাত বছর ধরে বন্ধ পড়ে আছে। ফলে একদিকে
  • আপলোড সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৯:১৩ সময়
  • আপডেট সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৯:১৩ সময়
খাগড়াছড়ির রামগড়ে মিনি মৎস্য হ্যাচারি ৭ বছর ধরে বন্ধ: পোনা সংকটে চাষীরা ছবি : সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার তৈচালা পাড়ায় অবস্থিত মিনি মৎস্য হ্যাচারি দীর্ঘ সাত বছর ধরে বন্ধ পড়ে আছে। ফলে একদিকে পোনা ও রেণু সংকটে ভুগছেন স্থানীয় মৎস্য চাষীরা, অন্যদিকে অচলাবস্থার কারণে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো। এ অবস্থার দ্রুত সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান সংশ্লিষ্টরা।


তথ্য বলছে, রামগড় উপজেলার তৈচালা পাড়ায় ১৯৮৫ সালে স্থানীয়ভাবে রেণু ও পোনার চাহিদা মেটাতে এবং মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্মিত হয় হ্যাচারি। কিন্তু শুরু থেকেই পরিচালনা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। এটি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে নাকি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের—এ দ্বন্দ্বে কেটে যায় দীর্ঘ ২০ বছর সময়। ২০০৪ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে “মৎস্য চাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে তিন ধাপে হ্যাচারীটি চালু রাখা হলেও ২০১৮ সালের জুন থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, হ্যাচারিতে প্রায় ৩ একর জায়গাজুড়ে রয়েছে ১০টি পুকুর। দীর্ঘদিন সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে সেগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অচল অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পাম্প, পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ হ্যাচারীর মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো।


প্রকল্প বন্ধ হওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে হ্যাচারীতে পড়ে আছেন কেবল আব্দুল মান্নান নামে একজন পাম্প অপারেটর। তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে বেতন নেই। স্থানীয় হওয়ায় কর্মকর্তাদের আশ্বাসে প্রকল্প পুনরায় চালু হলে কর্মসংস্থানের আশায় পড়ে আছেন। এলাকায় চায়ের দোকান এবং টমটম চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।


খাগড়াছড়ি মৎস্য অফিসের তথ্য বলছে, জেলায় প্রতি বছর মাছের চাহিদা প্রায় ১৪ হাজার ৭৪৪ মেট্রিক টন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪ হাজার ৭৫৬ মেট্রিকটন। ফলে জেলার বড় অংশের মাছ বাইরের এলাকা থেকে সরবরাহ করতে হয়। স্থানীয় চাষীরা বলছেন, রেণু ও পোনার সংকটই তাদের প্রধান বাধা। জেলা সদরের ঠাকুরছড়া এলাকার মৎস্য চাষী কল্যাণ মিত্র ত্রিপুরা জানান, “আমাদের এলাকায় পোনার সহজলভ্যতা নেই। অন্য জেলা থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়, লাভ কমে আসে।”


আরেকজন চাষী বলেন, “রামগড় হ্যাচারি যদি আবার চালু করা যায় তাহলে আমাদের খরচ কমবে, উৎপাদন বাড়বে। এতে স্থানীয় চাহিদার বড় অংশ মেটানো সম্ভব।”


খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ বলেন, “পোনা সংকটের কারণে স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রামগড়ের হ্যাচারি চালু হলে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।”


খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, রামগড় হ্যাচারি চালুর ব্যবস্থা দ্রুত নেয়া হবে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ওয়াসিম-বোল্টের রেকর্ড স্পর্শ করলেন মোস্তাফিজ

ওয়াসিম-বোল্টের রেকর্ড স্পর্শ করলেন মোস্তাফিজ