পবিত্র নগরী মক্কায় একটি বৃহৎ বিনোদন প্রকল্প নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করা এক সৌদি প্রকৌশলীর সাম্প্রতিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিতর্কটি পবিত্র কাবা এবং মসজিদে হারামের কাছাকাছি সিনেমা হল নির্মাণকে কেন্দ্র করে। যদিও সরকারি প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রকল্পটি হারাম সীমানার বাইরে আল-আবিদিয়া জেলায় অবস্থিত, স্থানটি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে।
মক্কার নিকবর্তী জেলায় প্রথম সিনেমা হল নির্মাণের খবর দিয়েছে দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন ডটকম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওতে ওই ইঞ্জিনিয়ার দাবি করেছেন, ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্রতম স্থান কাবাঘরের একেবারে কাছাকাছি এত বড় বিনোদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সৌদি সরকার।
স্মার্ট মক্কা গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সৌদি সরকার, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সিনেমা। সৌদি সরকার বলছে, আধুনিক বিনোদন ব্যবস্থাকে ধর্মীয় গুরুত্বের সঙ্গে মিল রেখে সমন্বয় করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সৌদি এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারস, এটি সৌদির পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালে সৌদি এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারসকে ২৫০ কোটি ডলারের বিভিন্ন প্রজেক্ট দেওয়া হয়।
মক্কা সিনেমা প্রজেক্টের মূল্য ১৩০ কোটি সৌদি রিয়াল। স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান মডার্ন বিল্ডিং লিডারস এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে। পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদের হারাম কমপ্লেক্সের বাইরে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এই সিনেমা প্রজেক্ট তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রজেক্টর এরিয়ার পরিধি ৮০ হাজার স্কয়ার মিটার। দেশটিতে সিনেমা হল নির্মাণকে উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ চার দশক ধরে সৌদি আরবে সিনেমা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় সৌদি সরকার। দেশটির তরুণ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যে ভিশন ২০৩০ হাতে নিয়েছেন, তার অংশ হিসেবেই সৌদি আরবের সমাজকে পশ্চিমাদের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতেও বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে সৌদি আরব।
ভিডিওটি প্রকাশের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, কেউ কেউ সৌদি আরবকে আধুনিকীকরণ এবং এর নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পদক্ষেপ হিসেবে এই উন্নয়নকে সমর্থন করেছেন। আবার অনেকেই মক্কার পবিত্র স্থানগুলোর এত কাছাকাছি জায়গায় বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের প্রকল্পগুলো শহরের ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
বিতর্ক সত্ত্বেও সৌদি কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, নতুন উন্নয়নগুলো মক্কার পবিত্রতার সঙ্গে কোনো ধরনের আপোস করবে না। তারা জোর দিয়েই বলেছেন যে, এই ধরনের প্রকল্পগুলো শহরের অবকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি এর ধর্মীয় গুরুত্ব সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
চলতি আগস্ট মাসে সৌদি এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারস মক্কা সিনেমার জন্য চূড়ান্ত অনুমোদিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এবং নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন