যাকেই সরকারের কঠিন প্রতিপক্ষ মনে করা হচ্ছে তাদেরকেই মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। এভাবেই সাধারণ মানুষকে দমন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুভ জন্মাষ্টমি উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দাগী আসামি ও খুনিদের জেলখানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে অসহায় ও নিরাপদ মানুষদের জেলখানায় আটকে রাখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে মিথ্যা মামলার বিষয়ে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে যাদের আটক করা হচ্ছে তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না। জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের জামিন হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্ম মতে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্য শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিলো। যাতে সমাজে সু-শাসন থাকে, আর সু-শাসন থাকলেই মানুষের আত্মায় শান্তি মেলে। এখন আমাদের দেশে চলছে দুষ্টের পালন আর শিষ্টের দমন। যে সমাজে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাবোধ করে না, সে সমাজকে সভ্য সমাজ বলা যায় না।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দায়-দায়িত্ব এই সরকারকেই নিতে হবে। আপনারা সুন্দরভাবে দেশ চালাতে না পারলে দায়িত্ব থেকে সরে যান। দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায়। দেশকে ভালোর দিকে না নিতে পারলেও খারাপের দিকে নিবেন না।
তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি কমেনি। আমরা দেখছি দেশ এখন দুর্নীতির সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। সর্বময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন দৃশ্যমান অ্যাকশন নেই। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ্যাকশন না নিলেও নিরপরাধ এবং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অ্যাকশন নিচ্ছে।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব অভিযোগ করেছেন অন্তত সরকারের ৮ জন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে। অভিযোগ করেছেন, পোস্টিং দিয়ে, পদোন্নতি দিয়ে এবং বিভিন্নভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে ওই উপদেষ্টারা শতশত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আরও অভিযোগ করেছেন, টাকা ছাড়া দেশে কোন কাজই হয় না।
তিনি বলেন, অনেক উপদেষ্টাকেই ব্যাক্তিগতভাবে চিনি এবং জানি যে তারা অত্যন্ত সৎ। কিন্তু, তাদের ডিপার্টমেন্টে যদি হরিলুট চলে তাহলে উপদেষ্টা কি দায় এড়াতে পারেন? প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী যারা বর্তমান সরকারের নিয়োগদাতা বা অভিভাবক তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ইংরেজ দার্শনিক ও রাজনীতিবীদ লর্ড এটনের একটি বিখ্যাত বক্তব্য হলো “ক্ষমতা মানুষকে দুর্নীতির দিকে নিয়ে যায়, এবং সর্বময় ক্ষমতা মানুষকে নিশ্চিতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত করে।
তিনি বলেন, আমরা শান্তি চেয়েছিলাম, আমরা একটি সুন্দর দেশ চেয়েছিলাম। আমরা অভিযোগ পাচ্ছি, হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা চলছে, বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে। হিন্দুদের উপর আগেও অত্যাচার ও নির্যাতন চলেছে। তখন তারা একটি জায়গায় বিচার চাইতে পেরেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গিয়ে তারা আশ্বস্ত হতে পারতো। এখন হিন্দু সম্প্রদায় বিচার চেয়ে আশ্বস্ত হতে পারছে না। মানুষ যতটা অত্যাৎচারিত তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি ভীত ও সন্ত্রস্ত।
তিনি বলেন, এখন যাকে তাকে আওয়ামী লীগের দোসর ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করায় যেন কোন অপরাধ নেই। হিন্দু সমাজের যারা দেশ ত্যাগ করে ভারতের গেছে, তারা বাধ্য হয়েই গেছে। আমাদের দূর্ভাগ্য, আমাদের ভাইদের দেশে রাখতে পারিনি। প্রতিটি ন্যায়সঙ্গত আন্দলন, সংগ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সাহসিকতার সাথে অংশ নেয়। হিন্দুদের প্রতি বর্তমান সরকার ও তাদের সঙ্গীদের দৃষ্টিভঙ্গির আমরা প্রতিবাদ করি। হিন্দু সহ সকল সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষায় যেকোন ত্যাগ স্বীকার করতে আমরা দ্বিধা করবো না।
তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সংগ্রাম করে হলেও অধিকার আদায় করতে হবে। হিন্দুদের যৌক্তিক আন্দোলন সংগ্রামে আমরা আগের মতোই পাশে থাকবো।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টির যেসব নেতার কারণে দেশের মানুষ আমাদের দোসর বলে আখ্যা দেয়, সেই নেতারাই এখন সরকারের সাথে যোগাাযোগ করে জিএম কাদের বিহিন জাতীয় পার্টি গড়তে চায়। আমি সরকারের সকল অপকর্মের সমালোচনা করছি, তাই সরকারের একটি অংশ জাতীয় পার্টির বহিস্কৃত নেতাদের লাঙ্গল প্রতীক দিতে চাচ্ছেন বলে আমাদের দল থেকে বহিস্কৃত নেতারা বলে বেড়াচ্ছেন। আমাদের সৌভাগ্য জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে।
কিছু ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এবং গঠনতন্ত্র অমান্য করে কাউন্সিল করলেই দলের নেতৃত্ব পাওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরাই জাতীয় পার্টি হিসেবে নিবন্ধিত। দলীয় ফোরামে কথা না বলে তারা বহিস্কৃতদের একত্রিত করে সরকারের একটি অংশের সহায়তায় জিএম কাদের বিহিন জাতীয় পার্টি গড়তে চাচ্ছে। যা কখনই সফল হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তুষার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে সমরেশ মন্ডল মানিক। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টি মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ এর সভাপতি অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, যুব ইউনিটের সভাপতি শিবু সাহা, সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুমন কুমার রায়, জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল দাস, বাংলাদেশ ভক্ত সংঘ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনিল পাল, জাতীয় হিন্দু মহাসংঘের উপদেষ্টা কৃষ্ণ নন্দি, মানবাধিকার নেত্রী সুমা বড়াল।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন