স্বৈরতন্ত্রের পতনের ঐতিহাসিক দিন এই ৫ আগস্ট। এক বছর আগে এই দিনে টানা আন্দোলনের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই গৌরবোজ্জ্বল বিকেলের স্মৃতি মনে করে আজ সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বাঁধন লেখেন, “যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে যে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন—যে তিনি গণআন্দোলনের চাপে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন—তখন যে বিজয়োল্লাস, যে বিস্ফোরক আবেগ মানুষ দেখিয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। বসে থেকে বা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে এটা বোঝা যাবে না। সেই মুহূর্ত অনুভব করতে হলে রাস্তায় থাকতে হতো, মিছিলে থাকতে হতো।”
তিনি আরও লেখেন, “পুরো জাতি যেন একইসঙ্গে জেগে উঠেছিল। কেউ কাঁদছিল আনন্দে, কেউ হাসছিল মুক্তির স্বাদ পেয়ে, কেউ নাচছিল বিজয়ের আনন্দে, আবার কেউ স্লোগানে মুখর ছিল চারপাশ। বাতাস যেন বিদ্রোহের আগুনে দীপ্ত হয়ে উঠেছিল। সেই সময়টাই আমার জীবনের সবচেয়ে মহামূল্যবান মুহূর্ত। আমি এই দেশের মানুষদের নিয়ে গর্বিত। কী বিশাল জয়! কী অদ্ভুত এক অর্জন!”
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সেই গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। টানা ৩৬ দিনের গণপ্রতিরোধের মাধ্যমে ভেঙে পড়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা। তৎকালীন সরকারপ্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এমনকি জাতীয় মসজিদের খতিব পর্যন্ত দেশত্যাগে বাধ্য হন। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই গণআন্দোলনে প্রাণ হারান সহস্রাধিক মানুষ।
এ দিনটির মাধ্যমে সূচনা হয় নতুন বাংলাদেশের—‘বাংলাদেশ ২.০’-এর। এটি কেবল একটি সরকারের পতন নয়, বরং ছিল একটি যুগের অবসান এবং একটি নতুন সূর্যোদয়ের প্রতীক।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন