ইংল্যান্ড নারী ফুটবল দল ইউরো ২০২৫-এ টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর লন্ডনে এক জাঁকজমকপূর্ণ বিজয় মিছিলের মাধ্যমে তাদের ঐতিহাসিক সাফল্য উদ্যাপন করে। এই উদ্যাপনে ৬৫ হাজারেরও বেশি ভক্ত অংশ নেন, সঙ্গে ছিলেন রয়্যাল পরিবারের সদস্যরাও।
‘দ্য লায়নেসেস’ নামে পরিচিত ইংল্যান্ড নারী ফুটবল দল একটি খোলা ছাদের বাসে করে লন্ডনের ঐতিহাসিক ‘দ্য মল’ সড়ক দিয়ে মিছিল করেন। পরে তারা বাকিংহাম প্যালেসের সামনে কুইন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে স্থাপিত মঞ্চে ভক্তদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার নেন সাবেক লায়নেস তারকা অ্যালেক্স স্কট।
দলের অধিনায়ক লিয়া উইলিয়ামসন বলেন, “আমি পুরোটা পথ কেঁদেছি। এটা অবিশ্বাস্য, আমাদের জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।” ২৮ বছর বয়সী আর্সেনালের এই ডিফেন্ডার আরও বলেন, “আমরা প্রতিটি ধাপে ইতিহাস গড়ছি। আমাদের সঙ্গে থাকুন, কারণ আমাদের গল্প এখনো শেষ হয়নি।”
চলো কেলি, যিনি ২০২২ সালের ফাইনালে জয়সূচক গোল এবং এ বছরের ফাইনালে নির্ধারক পেনাল্টি করেছিলেন, বলেন, “চাপ? কী চাপ?” তিনি বলেন, “এই দলের সঙ্গে একত্রে দাঁড়ানো, প্রতিটি খেলোয়াড় ও পর্দার পেছনের স্টাফদের সঙ্গে—এটা ছিল অসাধারণ।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্সেস বিয়াট্রিস অব ইয়র্ক। আরও এক চমক ছিল ইংল্যান্ডের ডাচ কোচ সারিনা উইগম্যানের জন্য—তার প্রিয় শিল্পী বার্না বয় মঞ্চে এসে গান পরিবেশন করেন। বার্না বয়-এর গানে উইগম্যানকে গাইতে ও নাচতে দেখা যায়।
ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় এসমে মরগান বলেন, “সারিনার মুখটা ছিল দেখার মতো! আমরা কেউই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। উনি তো দুর্দান্ত নাচলেন!”
ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) জানিয়েছে, অন্তত ৬৫ হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নিয়েছে। মরগান জানান, “কয়েকদিন আগেও আমরা ভাবছিলাম—‘মিছিল যদি পুরো দ্য মল পর্যন্ত হয়, তাহলে যদি মানুষ না আসে?’ কিন্তু আজ আমরা যখন এলাম, চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ! আমরা কতটা সৌভাগ্যবান, তা আমরা টের পেলাম।”
এফএ-এর প্রধান নির্বাহী মার্ক বুলিংহ্যাম বলেন, “খেলোয়াড়েরা বারবার জিজ্ঞেস করছিল, ‘আসলে কি মানুষ আসবে?’ আমরা বলেছিলাম, ‘অবশ্যই আসবে’। আমরা আগের দিন বিমানবন্দরে ভক্তদের উপস্থিতি দেখে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।”
ইংল্যান্ড দল সোমবার সাউথএন্ড বিমানবন্দর হয়ে দেশে ফিরে ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবর্ধনায় অংশ নেয়। এরপর মিছিলের মঞ্চে পারফর্ম করেন গায়িকা হিদার স্মল। তার গাওয়া গানটি পুরো ইউরো আসরে লায়নেসদের প্রেরণাদায়ক সংগীত ছিল।
চেলসি ডিফেন্ডার নিয়াভ চার্লস, যিনি মেরসিসাইডের উইরাল থেকে এসেছেন, বলেন, “আমি কখনো এমন দিন দেখিনি। ছোটবেলায় পরিবার নিয়ে বাকিংহাম প্যালেস দেখতে এসেছিলাম। তখন স্বপ্নেও ভাবিনি একদিন এখানে এমনভাবে দাঁড়াব।”
তিনি আরও বলেন, “বাস থেকে দেখছিলাম—বয়স্ক মানুষ, শিশু, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ—সবাই এসেছে। তাদের মুখে যে আনন্দ, সেটা আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা।”
২০২৩ সালের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হওয়ার পর, এবার ইউরোতে সেই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করে ইংল্যান্ড। লায়নেসরা এখন লক্ষ্য করছে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ, যেখানে তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা করছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন