টেক্সাসের গুয়াদালুপ নদীর তীরে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২০ জনেরও বেশি শিশু, যারা একটি গ্রীষ্মকালীন শিবিরে অংশ নিচ্ছিল।
কের কাউন্টির শেরিফ ল্যারি লেইথা জানিয়েছেন, হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সহায়তায় শত শত জরুরি কর্মী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সন্ধ্যাবেলায় সংবাদ সম্মেলনে লেইথা জানান, "এই মুহূর্তে আমি যা নিশ্চিত করতে পারি, আমরা প্রায় ২৪ জন নিহত হয়েছি।"
বন্যার পানির প্রবল স্রোতে রাস্তা-ঘাট অচল হয়ে পড়ায় শুরুতে উদ্ধারকারীরা ক্যাম্পে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। যদিও পরে টেক্সাস পার্কস এবং বন্যপ্রাণী বিভাগের গেম ওয়ার্ডেনরা ক্যাম্প মিস্টিকে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করে ক্যাম্পারদের উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক জানিয়েছেন, মাত্র ৪৫ মিনিটে গুয়াদালুপ নদীর পানি ২৬ ফুট (প্রায় ৮ মিটার) পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, নদীর ধারে অবস্থিত ক্যাম্প মিস্টিক থেকে "প্রায় ২৩ জন" মেয়ের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজদের সবাই যে মারা গেছে, এমন ধারণা করা হচ্ছে না। কেউ কেউ গাছে আটকে থাকতে পারে বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায়, হেলিকপ্টার থেকে ঝুলে থাকা একজন উদ্ধারকারী একটি গাছ থেকে একজন মানুষকে উদ্ধার করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বন্যাকে “ভয়াবহ” ও “মর্মান্তিক” বলে অভিহিত করেছেন।
বৃষ্টিপাতের মাত্রা কিছুটা কমলেও, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সান আন্তোনিও থেকে ওয়াকো পর্যন্ত আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ড্যান প্যাট্রিক। পশ্চিম ও মধ্য টেক্সাসজুড়ে বন্যার ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে।
টেক্সাস ন্যাশনাল গার্ড, ইউএস কোস্ট গার্ড এবং ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির সহায়তায় প্রায় ৫০০ জন উদ্ধারকর্মী ও ১৪টি হেলিকপ্টার উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে।
বন্যাকবলিত অঞ্চলে পরিস্থিতি এখনও সংকটপূর্ণ। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন