২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাজেট বক্তৃতায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ঘোষণা দিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে উৎসে কর বা সোর্স ট্যাক্স কমিয়ে ১ শতাংশ থেকে মাত্র ০.৫ শতাংশে আনা হচ্ছে।
সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও অন্যান্য গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত পূর্ব-রেকর্ডকৃত বাজেট ভাষণে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে ধান, গম, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, আদা, হলুদ, শুকনো মরিচ, চিনি, ভোজ্যতেল, ফলমূল, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশসহ অন্তত ২৫টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে যেতে পারে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, উৎসে কর রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা না রাখলেও ব্যবসায়ীরা এটিকে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে ভোক্তার স্বার্থে সরকার উৎসে কর হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের ওপরও উৎসে কর অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে চিনি ও সয়াবিন তেলের ওপর ভ্যাট ও শুল্কের হার হ্রাসের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দামেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এবার বাজেটে কমবে ক্রিকেট ব্যাটের দামও, যা দেশের তরুণ ও ক্রীড়ামোদীদের জন্য সুখবর।
এবারের বাজেট ঘোষণায় সংসদ না থাকায় কোনো সংসদীয় বিতর্ক বা আলোচনা হয়নি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় জনমত গ্রহণের ভিত্তিতে বাজেটের চূড়ান্ত রূপ দেবে এবং তা উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে বাজেটটি ১ জুলাই ২০২৫ থেকে কার্যকর করবেন।
আগামীকাল (৩ জুন) বিকেল ৩টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে গণমাধ্যমকর্মীরা অর্থ উপদেষ্টার কাছে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।
এই বাজেট শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা নয়, বরং দেশের নাগরিকদের জীবনযাত্রায় বাস্তব পরিবর্তন আনার একটি প্রয়াস বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন