সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সরাসরি আঘাত হানার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ গোষ্ঠী। বুধবার (৪ নভেম্বর) চালানো এই হামলায় বিমানবন্দরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি।
ইয়াহিয়া সারি বলেন, হামলার পর রিয়াদের বিমানবন্দর এখন অনিরাপদ। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা, উড়োজাহাজের কর্মী ও যাত্রীদের সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তবে মক্কা ও মদিনার ওপরের আকাশসীমার ক্ষেত্রে এই সতর্কতা প্রযোজ্য নয় বলে উল্লেখ করেন হুথিদের এই মুখপাত্র। এদিকে, রিয়াদ ও এর আশপাশের এলাকায় বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনার পর সৌদি আকাশসীমা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থার জারি করা নির্দেশনা এখনো বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের সহায়তায় বুধবার পূর্বাঞ্চলীয় আল-জাউফ প্রদেশে অগ্রসর হয়েছে। তবে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-জাউফের পূর্বাঞ্চলে সেনা সমাবেশ লক্ষ্য করে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুথিরা। এতে দেশটির সংঘাত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে, চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল জানিয়েছে, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ শহর ও আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষ এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ১৩ হাজারের বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার নারীর আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টাপাল্টি দাবি, সামরিক অগ্রযাত্রা এবং মানবিক সংকট—সবকিছু মিলিয়ে ইয়েমেন ও সৌদি আরব ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও গভীর হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন