ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপি সরকার চোরাবালিতে আটকে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তার দাবি, সরকার যত বেশি নড়াচড়া করছে, ততই তারা সংকটের আরও গভীরে চলে যাচ্ছে। শনিবার রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, শনিবার বিকেলে তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশে নতুন করে একটি দল ও কিছু মানুষ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং তাদের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে। তবে তার দাবি, বিরোধীরা কোনো অরাজকতা শুরু করেনি; বরং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দখলদারির মাধ্যমে বর্তমান সরকারই অরাজকতার সূচনা করেছে। গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে সারজিস আলম বলেন, অতীতে যারা ভয় দেখিয়ে কিংবা আইনের অপব্যবহার করে বিরোধীদের দমন করার চেষ্টা করেছে, তাদের পরিণতি থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধীদের ওপর দায় চাপানোর রাজনীতি দেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। জনগণ এখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সরকারের কার্যক্রম নিজেরাই মূল্যায়ন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির অতীতের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, বিরোধী দলে থাকার সময় বিএনপি ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’র কর্মসূচি দিয়েছিল। কিন্তু তখন তারা একটি বালুর ট্রাকও সরাতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষায়, আন্দোলনের মাঠে ব্যর্থ এবং সরকার ও বিরোধী দল—দুই অবস্থানেই ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়া কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে নসিহত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিএনপির বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই সরকার এমন এক চোরাবালিতে আটকে গেছে, যেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তারা আরও গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলকে নিজেদের সংশোধন করার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে মহিষকে ঘাস খাওয়ানোর জন্যও চাঁদা দিতে হয়। এটিকে তিনি চরম নির্লজ্জতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন