দীর্ঘ ১৭ বছর পর সিরিয়া সফরে গিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম কোনো জাতিসংঘ মহাসচিব যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে আনুষ্ঠানিক সফর করলেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি। সফরকালে তিনি দেশটির নতুন রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল-শারাসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদের পতনের পর নতুন নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, গুতেরেসের এই সফর সেই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পর দেশটির পুনর্গঠন, স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব পাবে আলোচনায়।
সফরের অংশ হিসেবে অধিকৃত গোলান মালভূমিও পরিদর্শন করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে নিয়োজিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, এই সফর সিরিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সংঘাত-পরবর্তী পুনরুদ্ধার, টেকসই শান্তি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে সফরের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি এখনো প্রকাশ করা না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, গুতেরেস কয়েক দিন সিরিয়ায় অবস্থান করবেন এবং আগামী সোমবার দেশটির পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে পারেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও সিরিয়া সফর করেছিলেন। সেই সফরের সময় দামেস্কে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন