চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে সুদানে নতুন করে কলেরার সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চারটি রাজ্যে সন্দেহভাজন কলেরা রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, সংঘাতের কারণে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী খার্তুমে ফেডারেল এমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টারের বৈঠকে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে জানানো হয়, উত্তর কর্দোফান, পশ্চিম কর্দোফান, দক্ষিণ দারফুর ও খার্তুম রাজ্যে নতুন করে কলেরার লক্ষণ শনাক্ত হয়েছে। তবে আক্রান্তের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই সময়ে হামের সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। নতুন শনাক্ত ২৫ জন রোগীর মধ্যে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে ইতোমধ্যে অন্তত ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক হাজার ৩৩০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সংস্থাটির মতে, সুদান বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি। দেশটির প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, যার মধ্যে ২ কোটি ১০ লাখ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন রয়েছে।
গৃহযুদ্ধের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংঘাত, খাদ্যসংকট এবং চিকিৎসাসেবার অভাবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, উত্তর কর্দোফানের বারা শহরের পশ্চিমাঞ্চলে দুই লাখের বেশি মানুষ কলেরা, হাম, খাদ্যসংকট এবং ওষুধের তীব্র অভাবের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। ফলে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন