আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার এবং ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকা ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ কমিশনের ১২তম সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনসংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, সংশোধনী প্রস্তাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পাশাপাশি ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি কিংবা অন্যান্য ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকা ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ১৮ বছর পূর্ণ হলে তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। এর আগ পর্যন্ত তাদের তথ্য নিষ্ক্রিয় অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আরও জানান, নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানো যায় কি না, সে বিষয়েও পর্যালোচনা চলছে। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি অথবা প্রাথমিক স্তর—কোন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হবে, তা নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মানদণ্ড কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন