বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রাক্কালে শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে মাতৃত্ব এবং অপুষ্টির কারণে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হলে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যেসব শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম অথবা যারা প্রয়োজনীয় টিকা পায়নি, তারা হামে আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপুষ্টি থাকলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
সম্প্রতি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন গুরুতর হাম আক্রান্ত শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের অনেকের মায়ের বিয়ে ও মাতৃত্ব হয়েছে অল্প বয়সে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কম বয়সী মায়েদের সন্তানদের মধ্যে অপুষ্টি ও কম ওজনের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, অপুষ্ট শিশুরা হামে আক্রান্ত হলে দ্রুত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তিনি শিশুকে সময়মতো ভিটামিন ‘এ’ প্রদান এবং মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হয়।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নাহিদ সুলতানা বলেন, অল্প বয়সে গর্ভধারণের ফলে অনেক ক্ষেত্রে কম ওজনের ও অপুষ্ট শিশুর জন্ম হয়। এসব শিশু সংক্রামক রোগে সহজেই আক্রান্ত হয় এবং জটিলতায় ভোগে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ের হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। একই সঙ্গে কিশোরী মায়েদের সন্তান জন্মদানের হারও উদ্বেগজনক।
শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আতিকুল ইসলাম বলেন, যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের মধ্যেই হামের জটিলতা বেশি দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন। স্বাস্থ্য ও জনমিতিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক নবজাতকের মৃত্যু হয়, যার বড় অংশই কিশোরী মায়ের সন্তান। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপুষ্টিজনিত কারণে প্রতিদিন বহু শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোরীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, নিয়মিত টিকাদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুস্বাস্থ্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন