ঈদুল আজহার ছুটি ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে রাজধানীর বাতাসে যে স্বস্তি ফিরেছিল, তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টির কারণে ধুলাবালি কমে যাওয়া এবং যানবাহন ও নির্মাণকাজের চাপ সাময়িকভাবে হ্রাস পাওয়ায় বায়ুর মানের উন্নতি হয়েছিল। তবে বৃষ্টিপাত কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে দূষণের মাত্রাও আবার বাড়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। বুধবার (৩ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান সূচক ছিল ৯৪। এ অবস্থায় বিশ্বের দূষিত প্রধান শহরগুলোর তালিকায় রাজধানীর অবস্থান ছিল ১২তম। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকার বাতাস ‘মাঝারি’ মানের হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় এদিন শীর্ষে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। এরপর রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনসাসা, ভারতের দিল্লি, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং চিলির সান্তিয়াগো। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টিপাত বায়ুদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৃষ্টির পানিতে বাতাসে ভাসমান ধুলিকণা ও ক্ষতিকর উপাদান মাটিতে নেমে আসে, ফলে বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হয়। ঈদের ছুটিতে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং নির্মাণকাজে বিরতি থাকাও বায়ুর মান উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে।
তবে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে গেলে এবং নগরীর স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এলে আবারও দূষণের মাত্রা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ রাজধানীর দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বাতাস সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি কিংবা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বাইরে বের হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার এবং অতিরিক্ত দূষিত পরিবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন