ইরানের কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য হামিদ রাসাঈর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টটি নিয়ে পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এতে ইরানের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ইঙ্গিত থাকতে পারে। ফলে রক্ষণশীল ও সরকারপন্থী মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ মে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে “নেতৃত্বের জন্য কে উপযুক্ত?” শীর্ষক একটি লেখা প্রকাশ করেন রাসাঈ। সেখানে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা হুদের একটি আয়াত উল্লেখ করে নবী নূহ (আ.)–এর অবাধ্য পুত্রের উদাহরণ তুলে ধরেন।
ইরানি রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় “নূহের পুত্র” উপমা সাধারণত এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যিনি ধর্মপ্রাণ বা প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম নিয়েও সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হন। এ কারণেই অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, রাসাঈর এই মন্তব্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পরিবারের সদস্য মোজতবা খামেনিকে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করতে পারে। এ নিয়ে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, নেতৃত্ব পরিবর্তন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে, তখন এমন মন্তব্যের তাৎপর্য আরও গুরুত্ব বহন করে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করেন, এটি কট্টরপন্থী শিবিরের ভেতরে নেতৃত্ব প্রশ্নে মতবিরোধের প্রতিফলন হতে পারে। একই সঙ্গে রক্ষণশীল শিবিরের কয়েকজন নেতাও রাসাঈর কাছ থেকে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। বিতর্ক আরও তীব্র হয়, কারণ একই দিনে মোজতবা খামেনি পার্লামেন্টে পাঠানো এক বার্তায় স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন। গালিবাফ বর্তমানে পারমাণবিক কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তবে রাসাঈ সম্প্রতি তার কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে হামিদ রাসাঈ কট্টরপন্থী একটি রাজনৈতিক ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে মতপার্থক্যের কারণে তিনি সেখান থেকে সরে এলেও এখনও সেই রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সমালোচনার জবাবে রাসাঈ বলেন, তিনি নতুন কোনো বক্তব্য দেননি, বরং পূর্বে প্রকাশিত একটি লেখা পুনরায় শেয়ার করেছেন। তার দাবি, পোস্টটি মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক বার্তার আগেই প্রকাশিত হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি জানান, অতীতে নেতৃত্ব প্রশ্নে তিনি মোজতবা খামেনিকে সমর্থনও করেছিলেন। তবে তার ব্যাখ্যা সত্ত্বেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন