ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

সুন্দরবন প্রবেশে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী এবং মৎস্যসম্পদের প্রজননকাল সুরক্ষিত রাখতে আজ সোমবার (১ জুন) থেকে টানা তিন মাসের জন্য বনাঞ্চলে
  • আপলোড সময় : ১ জুন ২০২৬, সকাল ৯:২৭ সময়
  • আপডেট সময় : ১ জুন ২০২৬, সকাল ৯:২৭ সময়
সুন্দরবন প্রবেশে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী এবং মৎস্যসম্পদের প্রজননকাল সুরক্ষিত রাখতে আজ সোমবার (১ জুন) থেকে টানা তিন মাসের জন্য বনাঞ্চলে সব ধরনের প্রবেশ ও আহরণ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। বন বিভাগ জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি, গোলপাতা সংগ্রহকারীসহ কোনো বনজীবী সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্যও বন ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো নিষিদ্ধকালীন সময়েও করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র পর্যটকদের জন্য খোলা রাখা হবে।


বন কর্মকর্তাদের মতে, মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, নৌযানের চলাচল, পর্যটকবাহী ট্রলারের শব্দ এবং মানুষের উপস্থিতি বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও প্রজনন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও বনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, করমজল পশুর নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে সীমিত পর্যটন কার্যক্রম বনের মূল জীববৈচিত্র্য বা মৎস্যসম্পদের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না বলেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের সময় কোনো ধরনের পাস বা পারমিট ইস্যু করা হবে না বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। এছাড়া অবৈধভাবে বনে প্রবেশ বা সম্পদ আহরণের চেষ্টা করলে বন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হবে। তবে বন রক্ষার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও উদ্বেগে রয়েছেন সুন্দরবননির্ভর হাজারো মানুষ। বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ থাকায় আগামী তিন মাস তাদের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ থাকবে। অনেক বনজীবীর দাবি, দীর্ঘদিন বন বন্ধ থাকলে সংসার চালাতে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়, অথচ পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া যায় না।


সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক শুভ্র শচীন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বননির্ভর মানুষের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি বনজীবীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান এবং নিষিদ্ধকালীন সময়ে সরকারি খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার, যার প্রায় ৩১ শতাংশ জলভাগ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটিতে রয়েছে ২১০ প্রজাতির মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি এবং ১৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মিয়ানমারে খনির বিস্ফোরক গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৪৫

মিয়ানমারে খনির বিস্ফোরক গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৪৫